নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর লোহানীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী রায়হান কবির মিল্টন বলেছেন, “চেয়ারম্যান হওয়া বা না হওয়াই আমার লক্ষ্য নয়। আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি লোহানীপাড়া ইউনিয়নের একজন সন্তান। নির্বাচনে জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে সততা, জবাবদিহিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো। আর যদি নির্বাচিত না-ও হই, তবুও মানুষের সেবায় আমার পথচলা থেমে থাকবে না। আমি সবসময় লোহানীপাড়া ইউনিয়নবাসীর পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।”
রায়হান কবির মিল্টন বলেন, জনপ্রতিনিধি হওয়া মানুষের সেবা করার একটি বড় সুযোগ হলেও সমাজের কল্যাণে কাজ করার জন্য কোনো পদ-পদবির প্রয়োজন হয় না। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং এলাকার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
বর্তমানে জরুরি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন বলে জানান তিনি। বিদেশে থেকেও ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও সম্ভাবনার বিষয়ে খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ, মানবিক সহায়তা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “দূরত্ব কখনো দায়িত্ববোধকে কমিয়ে দিতে পারে না। আমি দেশের বাইরে থাকলেও আমার মন পড়ে থাকে লোহানীপাড়ার মানুষের কাছে। ইউনিয়নের কোনো মানুষ সমস্যায় পড়লে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতার হলেও এটি কোনো বিভেদ বা সংঘাতের ক্ষেত্র হওয়া উচিত নয়। নির্বাচনের পর সবাইকে আবার একসঙ্গে বসবাস করতে হবে। তাই নির্বাচনকে ঘিরে পারস্পরিক সম্মান, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রায়হান কবির মিল্টন বলেন, “আমি কোনো বিভক্তির রাজনীতি বিশ্বাস করি না। লোহানীপাড়া ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ আমার পরিবারের সদস্য। আমি চাই সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সুন্দর, নিরাপদ, আধুনিক ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গড়ে তুলুক। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার আগে মানুষের ভাই, সন্তান ও একজন বিশ্বস্ত সহযাত্রী হতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদ গঠন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, মাদক, জুয়া, চুরি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তার মতে, একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবিক মূল্যবোধ এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। তাই জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই। নির্বাচনে আপনারা যেই সিদ্ধান্তই নিন না কেন, আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকবো। মানুষের সেবা করাই আমার জীবনের অঙ্গীকার।”
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে রায়হান কবির মিল্টনের এ বক্তব্য ইউনিয়নজুড়ে ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে ঐক্য, সম্প্রীতি এবং জনসেবার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লোহানীপাড়া ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রার্থীর প্রচারণা জোরদার হয়েছে। এরই মধ্যে রায়হান কবির মিল্টনের এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতি ও নির্বাচনী পরিবেশে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সংবাদটি মূলত তার বক্তব্য ও দাবির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে; ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ও নির্বাচনী ফলাফল ভবিষ্যতে নির্ধারিত হবে।