নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আন্দোলনরত এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, অশোভন আচরণ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে রংপুর মহানগরের কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করতে গেলে শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়, গালিগালাজ করা হয় এবং এতে অনেক শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবি, নতুন কারিকুলাম ও শিক্ষা-সংক্রান্ত নীতিগত পরিবর্তনের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের পক্ষে মো. মাহদী হাসান অনিক রংপুর কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর এ লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। মাহদী হাসান রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থী।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের প্ররোচনায় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করা হয়, ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়, যা অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরলেও তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের সাংবিধানিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। এ ধরনের ঘটনার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে নতুন শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) বাস্তবায়ন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, কারিকুলাম পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে। পাঠদান, পরীক্ষা পদ্ধতি ও মূল্যায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
মো. মাহদী হাসান অনিক অভিযোগপত্রে বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ, গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদের ন্যায্য দাবি উপস্থাপনের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে যদি তারা হামলা, নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হন, তবে তা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যও উদ্বেগের কারণ।
অভিযোগপত্রে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রংপুর কোতোয়ালী থানার কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি। থানায় ডিউটিরত পুলিশ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে। তবে এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য ও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।