শিরোনাম :
‎লোহানীপাড়ার এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পাশে থাকার ঘোষণা রায়হান কবির মিল্টনের ‎ ‘সামনে হুজুর, পেছনে দুশমনি’—বিরোধিতাকারীদের নিয়ে মুফতি সালেহর ফেসবুক পোস্ট রংপুরে ইয়াবা বিক্রির সময় যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ ইসলামের স্বার্থেই জোট হয়েছিল , ইসলামের স্বার্থেই বেরিয়ে এসেছি: ফয়জুল করীম বাংলাদেশে কেয়ামত পর্যন্ত ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ হবে না: মুফতি ফয়জুল করীম সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যু ক্ষতিপূরণের অর্থ অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। এন. এম. ঈসা মোরেলগঞ্জে দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধির পিতার ইন্তেকাল: মোরেলগঞ্জে দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধির বাবার ইন্তেকাল খুলনায় পিকআপের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত, চালকসহ আটক ২ শরণখোলায় কোডেকের সংলাপ অনুষ্ঠিত
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন

‎বদরগঞ্জে ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় উদ্বোধনের দিনেই শুরু হয়েছে অবৈধ লটারি জুয়া 

Reporter Name
Update : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর।। 

‎রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের হাসিনানগর এলাকায় আয়োজিত ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলা ২০২৬ উদ্বোধনের দিনেই শুরু হয়েছে অবৈধ লটারি জুয়া ও র‌্যাফেল ড্র কার্যক্রম। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেলায় প্রবেশ টিকিটের সঙ্গে র‌্যাফেল ড্র পরিচালনার মাধ্যমে কার্যত উন্মুক্ত লটারির আয়োজন করা হচ্ছে, যা অনুমতিপত্রে উল্লেখিত শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিদিন রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় টিকিট বিক্রির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি, ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ এবং পারিবারিক পর্যায়ের উৎপাদকদের উৎসাহিত করা। কিন্তু বাস্তবে মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে র‌্যাফেল ড্র। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবর্তে ভাগ্যনির্ভর পুরস্কার জয়ের আশায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ মেলায় ভিড় করছেন। জানা গেছে, বদরগঞ্জ ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্যবর্তী হাসিনানগর এলাকায় ১০ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মেলা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়। গত ১৬ জুলাই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা মূল্যের প্রবেশ টিকিটের নামে র‌্যাফেল ড্র টিকিট বিক্রি শুরু হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী এটি পুরস্কার বিতরণ কর্মসূচির অংশ হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি মূলত লটারি পরিচালিত হচ্ছে।

‎সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রংপুরের বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ, পীরগঞ্জ, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, ফুলবাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামে অটোরিকশা ও রিকশার মাধ্যমে র‌্যাফেল ড্র টিকিট বিক্রির কার্যক্রমে নেমেছে মেলা কমিটি। মেলা মাঠের বাইরেও এভাবে টিকিট বিক্রির কারণে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিটি অটোরিকশায় প্রায় দুই হাজার টিকিট রাখা হয় এবং প্রতিটি টিকিটের মূল্য ২০ টাকা। তাদের দাবি অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক যানবাহন টিকিট বিক্রির কাজে নিয়োজিত রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এলাকাবাসীর অভিযোগ—এই কার্যক্রম থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে গত বছরের থেকে এবার টিকিট বিক্রির অটো ও লোকজন বাড়ানো হবে বলে অভিযোগ করছে এলাকাবাসী।

‎এদিকে প্রতিদিন গভীর রাতে মোটরসাইকেল, স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিকস পণ্য ও অন্যান্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ড্র অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব ড্র মাইকিং, স্থানীয় ডিস সংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। পুরস্কারের প্রচারণা মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই সন্ধ্যা নামলেই মানুষের ঢল নামে হাসিনানগরে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনে করে মানুষ মেলায় আসছেন। এত বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল রাখার জন্য আলাদা পার্কিং ব্যবস্থাও করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই ভিড়ের অন্যতম কারণ র‌্যাফেল ড্রতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ। হাসিনা নগর এলাকার রফিকুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা জানান, গত বছরও একই স্থানে অনুষ্ঠিত মেলায় র‌্যাফেল ড্র নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময়ও বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে তাদের অভিযোগ। ফলে এবারও একই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মেলা ঘিরে শুধু র‌্যাফেল ড্র নয়, বিভিন্ন ধরনের অনিয়মও বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর মেলায় মানুষের অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশীয় উৎপাদিত পণ্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া। সেখানে যদি মেলার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে পুরস্কারনির্ভর কার্যক্রম, তাহলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা আড়ালে পড়ে যান এবং মেলার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়ে রামনাথপুর ট্যাক্সের হাট এলাকার আবু বক্কর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মেলার অনুমতিপত্রের শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।

‎মেলাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অনুমতিপত্রে উল্লেখিত শর্তাবলি এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য। স্থানীয়দের দাবি, মেলার অনুমতিপত্রে যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে, সেগুলোর কয়েকটি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে র‌্যাফেল ড্র কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ অনুমতিপত্রে লটারি, জুয়া কিংবা হাউজি খেলার আয়োজন না করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। প্রাপ্ত অনুমতিপত্র অনুযায়ী, মেসার্স বেলাল এন্টারপ্রাইজ কে ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমতিপত্রে দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয়, শিশু ও বড়দের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক রাইড, মোটরসাইকেল খেলা, সার্কাস প্রদর্শনী এবং দৈনিক প্রবেশ টিকিটের ওপর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের অনুমতি রয়েছে। তবে একই অনুমতিপত্রে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে,“কোনো অবস্থাতেই লটারি, জুয়া বা হাউজি খেলার আয়োজন করা যাবে না।” এই শর্তকে সামনে রেখেই স্থানীয়দের প্রশ্ন, বর্তমানে পরিচালিত র‌্যাফেল ড্র কার্যক্রম অনুমতির আওতায় পড়ে কি না, নাকি এটি অনুমতিপত্রের শর্ত লঙ্ঘন করছে—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

অনুমতিপত্রে যেসব শর্ত রয়েছে

‎অনুমতিপত্রে মেলা পরিচালনার জন্য একাধিক বাধ্যতামূলক শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে,মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ।প্রয়োজনীয় সংখ্যক কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও পানির ব্যবস্থা রাখা। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং আজান ও নামাজের সময় মাইক সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা।মেলা চলাকালীন ও শেষে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট, ট্যাক্স ও অন্যান্য রাজস্ব পরিশোধ। শর্ত ভঙ্গ হলে কর্তৃপক্ষ কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমতি বাতিল করতে পারবেন। অনুমতিপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, এসব শর্তের যেকোনো একটি লঙ্ঘিত হলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

‎নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। মেলা এলাকায় কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো থাকলেও সেগুলো সচল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক দর্শনার্থীর দাবি, ক্যামেরাগুলোর বেশ কয়েকটিতে কার্যকর সংযোগ নেই। এছাড়া পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মীও দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

‎চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেলা ঘিরে আশপাশের এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগে অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে তাদের দাবি।যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয়দের দাবি—আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা

‎স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, একটি ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত স্থানীয় উৎপাদক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজার তৈরি করা। কিন্তু যদি মেলার প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে পুরস্কারনির্ভর র‌্যাফেল ড্র, তাহলে সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় না করে ভাগ্যের আশায় টিকিট কেনার দিকে ঝুঁকতে পারেন। তাদের মতে, এ ধরনের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে পারিবারিক অর্থনীতি ও গ্রামীণ আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

‎প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ

‎স্থানীয় বাসিন্দারা রংপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বদরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, যদি অনুমতিপত্রের কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হয়ে থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে মেলার মূল উদ্দেশ্য যাতে ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং কোনো বিতর্কিত কার্যক্রমে পরিণত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

‎স্থানীয়দের দাবি

‎মেলায় র‌্যাফেল ড্র পরিচালনাকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের একটাই দাবি—সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা উদঘাটন করুক। তাদের মতে, একটি ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলার মূল উদ্দেশ্য স্থানীয় উদ্যোক্তা ও দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের প্রসার ঘটানো। যদি সেই আয়োজনকে কেন্দ্র করে অনুমতিপত্রের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রতিবছর এ মেলায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। তাই আয়োজকদের পাশাপাশি প্রশাসনেরও দায়িত্ব রয়েছে পুরো আয়োজন আইন ও অনুমতিপত্রের শর্ত অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা। তাদের দাবি, মেলায় যদি সত্যিই এমন কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে যা অনুমতির বাইরে, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; আর অভিযোগ সঠিক না হলে বিষয়টি স্পষ্ট করে জনসাধারণকে জানানো প্রয়োজন। এলাকার সচেতন মহলের মতে, ভাগ্যনির্ভর পুরস্কারের প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অর্থ লেনদেন হলে তার বৈধতা, স্বচ্ছতা ও আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত নজরদারি জরুরি।

‎অনুমতিপত্রে বাতিলের ক্ষমতার উল্লেখ

‎মেলা পরিচালনার অনুমতিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, নির্ধারিত শর্তাবলীর যেকোনো একটি লঙ্ঘিত হলে কর্তৃপক্ষ কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই অনুমতি বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন। এ কারণে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। অনুমতিপত্রের অনুলিপি রংপুর জেলা প্রশাসক, বদরগঞ্জ থানা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ফলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে আনার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

‎স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের একাংশের মতে, মেলা একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। সেখানে যদি বিতর্কিত কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে মেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি তরুণদের মধ্যেও ভুল বার্তা যেতে পারে। তাদের মতে, ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প মেলার মূল আকর্ষণ হওয়া উচিত স্থানীয় কারুশিল্প, কৃষিপণ্য, হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য এবং পারিবারিক শিল্পের বিকাশ। সেই উদ্দেশ্যকে আড়াল করে অন্য কোনো কার্যক্রম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলে মেলার প্রকৃত লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।

‎মেলা পরিচালক ও প্রশাসনের বক্তব্য 

‎মেলায় অবৈধ লটারি ও জুয়ার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেলার পরিচালক বেলাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, মেলায় লটারির বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। কোনো যদি লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তদন্ত করে দেখা হবে। অনুমতিপত্রের শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, “মেলার অনুমতিপত্রে যে শর্তগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। কোনো ধরনের অবৈধ লটারি, জুয়া বা অনুমতিপত্রের শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

‎বদরগঞ্জের হাসিনানগরের ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প ও বাণিজ্য মেলাকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে আয়োজকদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের একটি অংশ, অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে প্রশাসনের প্রতি। এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি পরিষ্কার হলে মেলাকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কেরও অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category