নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর।।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে শাহীন (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মীরাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত শাহীন উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মীরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোক পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, শাহীন এলাকার একজন ভালো যুবক ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে প্রতিবেশীরাও মর্মাহত।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সোমবার দুপুরে কোনো এক সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের অগোচরে শাহীন নিজ শয়নকক্ষে রাখা ইঁদুর মারার ট্যাবলেট জাতীয় ওষুধ খেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘোষণার পর স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—তা জানতে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ঘটনাটির তদন্ত চলমান ছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঝগড়া ঝামেলা থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তাই প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।