শিরোনাম :
‎বিরলে কলেজছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে আটক-১ কালুপাড়ায় ১৫ টাকা কেজিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ হচ্ছে:‎স্বস্তিতে নিম্নআয়ের মানুষ  হাজীগঞ্জে ইমাম রাব্বানী দরবার শরীফ থেকে শামীম রেজাকে আজীবন বহিষ্কার দৈনিক ইবি নিউজের সহকারী বার্তা সম্পাদক কলি আক্তার আহত ডাঃ হাঃ রোডের কোলঘেঁষে মাদ্রাসা ঠেস বাসস্টপের নলেজ সিটিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শিক্ষক দিবস উদযাপন বটিয়াঘাটায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের মধ্য উদযাপিত হয়েছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী ‎তারাগঞ্জে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত  ‎নাগেরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা পালিত  বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রূপসায় পদ্ম বিলের খালে মাছ অবমুক্ত মোরেলগঞ্জে জন্মাষ্টমীর মঙ্গল শোভাযাত্রায় অনুষ্ঠিত
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন

‎রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যার আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও বের হয়নি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার

Reporter Name
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)

‎রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের পর একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের মতো সুস্পষ্ট তথ্য জাতির সামনে আসেনি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও হত্যাকাণ্ডের সঠিক ক্লু বের করতে ব্যর্থ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “একটি শিক্ষিত ও ভদ্র পরিবারের চারজন মানুষকে হত্যা করা হলো। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পেছনে। অথচ এমন একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পরও এখন পর্যন্ত এর সঠিক ক্লু বের করা সম্ভব হয়নি।”

‎তিনি বলেন, অতীতে মামলা নেই, কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই—এমন অনেক নিরীহ মানুষকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু একটি পরিবারের চার সদস্য হত্যার মতো গুরুতর ঘটনায় এখনো তদন্তের বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যেও সামঞ্জস্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।জামায়াতের এই নেতা বলেন, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। এটি শুধু নিহত পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ বা জবানবন্দির মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জাতিকে জানার মতো কোনো সুস্পষ্ট তথ্য উদ্ঘাটন হয়েছে কি না, তা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও পরিষ্কার নয়। নিহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোক জানিয়ে তিনি অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।’

‎মতবিনিময় সভায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগ নিয়েও কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, সরকার প্রায় ছয় মাস ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। এ সময়ে দেশে প্রায় সাড়ে ৫০০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে সারের সংকট চলছে। বেশি দাম দিয়েও কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে লোডশেডিং চরমে পৌঁছেছে এবং গ্যাস ও জ্বালানি সংকটও তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি যোগ হয়েছে। এসব সমস্যার দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের উচিত রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত না থেকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর দিকে নজর দেওয়া। জনজীবনে স্বস্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

‎সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর দাবি, সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা দলীয়করণ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ এবং দেশের আটটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের পদায়ন করা হয়েছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা এমন কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। নির্বাচন দিন। নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো দলের লোকজন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলে তারা দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে যদি বাস্তবে সিদ্ধান্ত হয় ‘সবার আগে বিএনপি’, তাহলে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।” দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তিনি দাবি করেন, তাঁকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে মাত্র ১ হাজার ৩০০ ভোটে হারানো হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির পরাজিত নেতাদের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর ফলে কোনো কোনো এলাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

‎সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন আসন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার এমপি নন। জনগণের দেখাশোনা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও বরাদ্দসংক্রান্ত দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নির্বাচিত সংসদ সদস্যের। মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, বর্তমান সরকার অতীতের প্রচলিত রেওয়াজ ভেঙে দলীয় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সংসদীয় আসন তদারকির দায়িত্ব দিয়েছে। এ ব্যবস্থাকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ দাবি করে বলেন, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ওপর একজন অনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে খবরদারির দায়িত্ব দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা সরকারকে ভেবে দেখতে হবে।

‎জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সরকারপ্রধান জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছে। আগামী দিনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান তিনি।

‎মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রংপুর মহানগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাউসার আলী, ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সামসুল আলমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category