নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের হাসিনা নগর এলাকায় মেলার আড়ালে জুয়া ও লটারির মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তা দ্রুত বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন আসন্ন ১৫ নম্বর লোহানীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রায়হান কবির মিল্টন। একই সঙ্গে তিনি মাদক, চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।শনিবার (১৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, সমাজের শান্তি, নিরাপত্তা ও আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ আজ নানা সামাজিক অপরাধের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে মেলার আড়ালে জুয়া ও লটারির মতো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ উদ্বেগজনক। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার, চুরি, ছিনতাই এবং কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির প্রবণতা সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।
রায়হান কবির মিল্টন বলেন, একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন কেবল রাস্তা, সেতু বা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন মানুষ নিরাপদ থাকবে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং শিশু-কিশোররা একটি সুস্থ সামাজিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের হাসিনানগর এলাকায় বর্তমানে মেলার নামে জুয়া ও লটারি পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং তরুণদের বিপথে পরিচালিত করছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
বিবৃতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন, “লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মাটি কখনোই মাদক ব্যবসায়ী, জুয়াড়ি, লটারি সিন্ডিকেট, চোর, ছিনতাইকারী কিংবা অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে না। আইন সবার জন্য সমান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই একটি নিরাপদ সমাজ গঠনের প্রধান শর্ত। তিনি আরও বলেন, আমি প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি, মেলার আড়ালে পরিচালিত সব ধরনের অবৈধ জুয়া ও লটারি বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”
রায়হান কবির মিল্টন বলেন, লোহানীপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ২৬ হাজার মানুষের জানমাল, সামাজিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পেলে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, যুবসমাজ এবং সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, মাদক একটি সমাজকে ধ্বংস করে দেয়, জুয়া পরিবারকে নিঃস্ব করে, আর কিশোর অপরাধ একটি জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। তাই এসব অপরাধ দমনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, যুবকদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, মাদকবিরোধী প্রচারণা জোরদার করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে একটি নিরাপদ জনপদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমার ইউনিয়নে কোনো প্রকার জুয়া বা লটারি চলবে না, চলতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি প্রভাব খাটিয়ে বা গায়ের জোরে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করে, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা চাওয়া হবে। চেয়ারম্যান প্রার্থী আরও বলেন, একটি সমাজকে বদলে দিতে শুধু একজন জনপ্রতিনিধি যথেষ্ট নয়। এজন্য প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সচেতনতা এবং সামাজিক ঐক্য। তিনি ইউনিয়নবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদক, জুয়া, লটারি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, “আমি এমন একটি লোহানীপাড়া ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে বেড়ে উঠবে, যুবসমাজ কর্মমুখী হবে, নারীরা নিশ্চিন্তে চলাচল করবে এবং প্রতিটি পরিবার শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।”
বিবৃতির শেষে তিনি ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশে বলেন, জনগণের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারলে তিনি একটি মাদকমুক্ত, জুয়ামুক্ত, লটারিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক ও নিরাপদ লোহানীপাড়া ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন।চেয়ারম্যান প্রার্থীর এ বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই একটি নিরাপদ সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত।