নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
রংপুরের বদরগঞ্জে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ ও মাড়াই কার্যক্রমে অনিয়ম, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, এক উপসহকারী কর্মকর্তা, নৈশপ্রহরী, একজন রাজনৈতিক নেতাসহ চারজন মিল-চাতাল মালিকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রেজোয়ান হাসান বদরগঞ্জ থানায় এ অভিযোগ দেন। অভিযোগটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—বদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সিংহ রায়, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রায়হান কবীর, উপসহকারী কর্মকর্তা আরিফুল হক, নৈশপ্রহরী হামিদুল ইসলাম, বদরগঞ্জ পৌর যুবদলের সদস্যসচিব জিয়াউল হক জিয়া এবং চারজন মিল-চাতাল মালিক মো. ফরহাদ হোসেন, সাজ্জাদ কবীর, সম্ভুচরণ রায় ও বাপ্পী কুণ্ডু।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রায়হান কবীরের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এবং অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সম্প্রতি সরকারের বরাদ্দ দেওয়া ৮০ মেট্রিক টন ধান ক্রাশিং বা মাড়াই করার কথা বলে চারজন মিল-চাতাল মালিকের কাছে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মিল মালিকেরা ওই ধান মাড়াই না করে খাদ্যগুদামেই রেখে দেন। পরে বিভিন্ন কৃষকের নাম ব্যবহার করে ওই ধান পুনরায় গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে—এমন কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে ভুয়া বা অন্যের নাম ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। শুধু ধান ক্রয়েই নয়, মাড়াই বা ক্রাশিংয়ের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে মাড়াই না করেই সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রায়হান কবীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তালিকাভুক্ত কৃষকেরা না আসায় ওপরের মহলের চাপে ধান কিনেছি।” তবে অভিযোগে তার বিরুদ্ধে যেসব অনিয়ম ও সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেননি।উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সিংহ রায়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, “আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহের মেয়াদ রয়েছে। তালিকার বাইরে ধান কেনার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ধান ক্রয় ও মাড়াই সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই এবং প্রকৃত কৃষকদের তালিকা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।তবে থানায় করা অভিযোগে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ ও সম্পদের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
উপদেষ্টা: আলহাজ্ব আব্দুল জববার শেখ, প্রকাশক: মোঃ মাসুম সরদার, সম্পাদক জাবেদ হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: রফিক ইকবাল, ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সম্পাদক: আসাদুজ্জামান কচি , বার্তা সম্পাদক: নাহিদ জামান, সহকারী বার্তা সম্পাদক: কলি আক্তার, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস, ২১৯, ফকিরেরপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও ১৯৫ রহমান ম্যানশন, (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। ২৫,স্যার ইকবাল রোড, হোটেল গোল্ডেন কিং ইন্টারন্যাশনাল ভবন, ৫ম তলা, খুলনা।ফোন: ০১৩৩৪-৬৮০৪২০, ই-মেইল: dailyebnews@gmail.com
Copyright © 2026 dailyebnews24. All rights reserved.