শিরোনাম :
দিঘলিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর রুকনের জানাজায় অধ্যক্ষ মাওঃ কবিরুল ইসলাম মৃত্যুর আগে নিজেকে মুমিন-মুসলমান হিসেবে তৈরি করতে হবে দিঘলিয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উদযাপন র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দিঘলিয়ায় চাঞ্চল্যকর সাবেক পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গণী ওরফে নাসিম হত্যায় দিঘলিয়া থানায় মামলা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান অব্যাহত কেউ গ্রেফতার হয়নি ‎রংপুরে সার ডিলারের তালিকায় বিএনপি নেতাদের স্বজন-আ.লীগ-জাপা-জামায়াত নেতাকর্মী কমলাপুরে যাত্রীদের টাকা ছিনতাইকালে ২ মলম পার্টির সদস্য আটক বোয়ালমারীতে তিন হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার দিঘলিয়ায় পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা আততায়ীর গুলিতে নিহত ছেলেকে জবাই করে হত্যার ৫১ দিনের মাথায় বাবাকে গুলি করে হত্যা বটিয়াঘাটায় নবাগত সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেছেন মোঃ ফজলে রাব্বী ২৬৩ নং সরালিয়া বিশারীঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক দিবস উদযাপন
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

বীর মুক্তিযোদ্ধা ‎মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান জামায়াত নেতা নন, সহযোগী সদস্য: এটিএম আজহারুল ইসলাম  ‎

Reporter Name
Update : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ)

‎রংপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করে সুষম অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম’-এর উত্থাপিত ১৩ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বর এলাকার জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ‘জামায়াতের নেতা নন’ তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য’ তিনি ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেয় বর্তমান তিনি সংগঠনের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেছিলেন তাই তিনি সহযোগী সদস্য “জামাত নেতা না” সহজে বলা যায় তিনি বর্তমান কর্মী হিসেবে আছে।

‎

‎সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন এখন সময়ের যৌক্তিক দাবি।

‎তিনি বলেন, শুধু দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সমান বরাদ্দ দিলেই রংপুরের উন্নয়ন বৈষম্য দূর হবে না। পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ বরাদ্দ ও পৃথক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু দ্রুত নির্মাণ, রংপুর বিভাগের সড়ক, সেতু ও কালভার্টসহ অবকাঠামোর বিশেষ উন্নয়ন এবং বিভাগজুড়ে রেল যোগাযোগ আধুনিকায়ন।

‎

‎ এ ছাড়া রংপুর বিভাগে গ্যাস সরবরাহ চালু, দ্রুতগতির ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা, রংপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি উপজেলায় সরকারি মহিলা কলেজ স্থাপন, নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আধুনিকায়ন করতে হবে। পাশাপাশি রংপুর মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিভাগের জেলা শহরগুলোকে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, নদীভাঙন ও পরিবেশের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

‎

‎মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কঠিন শিলার চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন সীমিত। দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের সুযোগ তৈরি হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একইভাবে রংপুর বিভাগের রেল যোগাযোগকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার পাশাপাশি ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে কার্যকর উৎপাদন ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

‎

‎সংবাদ সম্মেলনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়েও বক্তব্য দেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, সংসদের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে রংপুর বিভাগের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিকে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অঞ্চল উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। তাঁর দাবি, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য সমান আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন কোনো রাজনৈতিক পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

‎

‎এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগের উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক দাবি নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার। তাই উন্নয়ন ফোরামের ১৩ দফা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে তিনি বলেন, রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষা করা হলে তারা গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হবেন। সরকারের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খান, জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category