আব্দুল্লাহ আল মামুন: যশোর কয়েকটি মৌলিক চাহিদা অধিকারের নিশ্চয়তায় একজন নাগরিকের প্রাপ্য সেবার অন্যতম পানি। প্রাথমিক পাঠ্য বইতে আছে পানির অপর নাম জীবন। বিশুদ্ধ পানি সচারাচর স্বল্প মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার আওতায় রেখে মফস্বলে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ ছাড়াও যশোরের মণিরামপুরে নাম মাত্র ফিল্টারিং পাম্প বসিয়ে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি সুপেয় পানি সরবারাহের কারখানা।
যাদের নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র,কারো কাছে পাওয়া যায়নি স্বাস্থ্য বিভাগের সার্টিফিকেট, মেলেনি ইনকাম ট্যাক্সের রশিদ। আবার কাগজপত্র থাকলেও সেটা নবায়ন নাই। তবুও হাওয়ার উপর ভর করে মণিরামপুর পৌরসভা ও উপজেলা ব্যাপী ব্যাঙের ছাতার মতো যেখানে সেখানে চলছে সুপেয় পানি সরবারাহের নামে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুকিপূর্ণ এ সমস্ত বিভিন্ন নামের কম্পানির কারখানা। আজকের এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সুপেয় পানির নামে কিভাবে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পতিত করছে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ী! তথ্য সূত্র বলছে,মণিরামপুর পৌরশহরের তাহেরপুরে জৈনক ব্যবসায়ী টুকু রুপান্তর ড্রিংকিং,উপজেলার জয়পুর পশ্চিম পাড়ায় গোলাম আজমের তামিম ড্রিংকিং ওয়াটার,কুয়াদা বাজারে মোঃ আলমগীর হোসেনের ফারফেক্ট ড্রিংকিং ওয়াটার,রাজগন্জ বাজারে জৈনক শামিম হোসেনের ২টা কারখানা,পলাশী মোড়ের জৈনক মধুর কাজী ড্রিংকিং ওয়াটার সাপ্লাই সহ মণিরামপুর উপজেলাতে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অসংখ্য সুপেয় পানি সরবারাহের কম্পানির কারখানা।
সরেজমিনের চিত্র মোতাবেক,এ সমস্ত কারখানায় স্যাতস্যাতে পরিবেশ,ত্রুটিপূর্ণ ফিল্টার পাম্প,দূর্ঘন্তযুক্ত পানি, পুরাতন পানির জার,অদক্ষ জনবল সহ অসংখ্য অসংগতি নিয়ে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে দেখা যায় নামে সুপেয় হলেও স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ এ পানিতে বিশুদ্ধতার কোন বালায় নেই। অথচ,প্রতিদিন এক একটি কম্পানির ৪/৫টি ছোট যানবাহনে সরবারাহ করে চলেছে নামে বিশুদ্ধ সুপেয় পানি। প্রতিটি প্লাস্টিকের জারে ২০ লিটার পানি ভোক্তা পর্যন্ত পৌছায় ৩০ টাকা দরে। এ বিষয়ে খোজ নিতে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর,উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়, ফায়ারসার্ভিস সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরে খোজ নিলেও কোন দপ্তরে পাওয়া গেলোনা এ সমস্ত অবৈধ পানির কারখানার নথি। তবে,মনিরামপুর পৌরসভার তাহেরপুরে অবস্থিত রুপান্তর ড্রিংকিং ওয়াটার নামে একটি ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন আছে বলে জানিয়েছে মণিরামপুর পৌর কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য আছে, কোন রকম ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই এ সমস্ত অবৈধ পানির যত্রতত্র কারখানা গুলো হাওয়ার উপর ভর করে স্বাস্থ্যের ক্ষতিসাধন করা পানি সরবরাহ করে চলেছে কয়েকজন অসাধু ব্যাবসায়ী।
সচেতন মহলের দাবী যত্রতত্র এ সমস্ত সুপেয় পানির নাম মাত্র কারখানায় স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাবে দিন গেলেই ভোক্তারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পতিত হচ্ছে। এ সমস্ত কম্পানির কারখানার বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেনের সাথে একান্ত স্বাক্ষাতকারে তিনি জানান, উপজেলা ব্যাপি এ সমস্ত কারখানার তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। প্রমানিত হলেই ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা: আলহাজ্ব আব্দুল জব্বার শেখ, প্রকাশক: মোঃ মাসুম সরদার, সম্পাদক জাবেদ হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: রফিক ইকবাল, বার্তা সম্পাদক: নাহিদ জামান, সহকারী বার্তা সম্পাদক: কলি আক্তার, প্রকাশক কর্তৃক বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস, ২১৯, ফকিরেরপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও ১৯৫ রহমান ম্যানশন, (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। অফিস বাড়ি নং- ১২৯ (২য় তলা), আরাফাত গলি, খুলনা। ফোন: ০১৩৩৪-৬৮০৪২০, ই-মেইল: dailyebnews@gmail.com
Copyright © 2026 EB NEWS. All rights reserved.