দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ দিঘলিয়ায় পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গণী ওরফে নাসিম চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের পিস্তলের গুলিতে নিহত ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। দিঘলিয়া থানা পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান অব্যাহত আছে। এখন পর্যন্ত কোনো আসামী গ্রেফতার হয়নি। গত ৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১ টার সময় দিঘলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফরমাইশখানা গ্রামের ফায়ার সার্ভিসের নিকটে নিজ বাড়ির সামনে চায়ের দোকানে তাকে চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পিস্তল ঠেকিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘাতকরা ঘটনাস্থলে যে ভ্যানে আসে সেই ভ্যানে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। ঐদিন সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত শেষে নিজ বাড়িতে আনা হয়। পরদিন অর্থাৎ ৫ অক্টোবর সকাল ১০ টায় মরদেহ স্থানীয় ফরমাইশখানা ঈদগাহ ময়দানে জানাজা নামাজ শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। শত শত উৎসুক জনতা তাকে এক নজর দেখার জন্য এবং জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য ঈদগাহ ময়দানে ছুটে আসেন। শুধু তাই নয় ঘটনার পর থেকে তার জন্মস্থান ফরমাইশখানা ও দেয়াড়া গ্রামের শত শত মহিলারা ছুটে আসে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে। লোকমুখে বলতে শুনা যায়, নাসিম ভালো হয়ে চলছিল। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। এ কারণে তাকে জীবন দিতে হলো। সমাজের গরীব দুঃখী অনেক মানুষ তার নিকট থেকে খালি হাতে বিদায় নিতে হয়নি। ভ্যান গ্যারেজ মালিক রিজাউল ইসলাম জানান, আমার মা সহ্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন। নাসিম মামা আমার মায়ের হাসপাতালে ভর্তি ও ঔষধের সকল ব্যবস্থা তিনি করে দিয়েছেন। জনৈক ইমাম বলেন, আমি স্ট্রোক করে ঘরে বিছানায় ছিলাম। তিনি আমাকে আবু নাসের হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। তার বড় মেয়ে মীম (১৯) ঢাকায় একটা বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। ছোট ছেলে মাহিম (৭) স্থানীয় আইডিয়াল কেজি স্কুলে ২য় শ্রেণিতে পড়ে। নাসিম মারা যাওয়ার পর অবুঝ শিশুটিকে শুধু বলতে শোনা যায় আমাকে সব কিছু কে কিনে দেবে?
এদিকে গত সোমবার সন্ধ্যায় নিহত নাসিমের স্বজনরা মামলা করার জন্য দিঘলিয়া থানায় যান এবং দিঘলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। দিঘলিয়া থানা মামলা নং- ৪ তাং ০৫/১০/২০২৬ ইং। মামলার বাদী হয়েছেন নিহত নাসিমুল গণী ওরফে নাসিমের স্ত্রী সেলিনা খাতুন। মামলায় ৪ জন নামীয় আসামী অজ্ঞাত আরো অনেককে আসামী করা হয়েছে। হত্যার কারণ হিসেবে নানা কথা চাওর হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে রাজনেতিক ও সামাজিক কারণই মুখ্য হতে পারে এমনটাই অভিমত ব্যক্ত করেছেন এলাকার বিজ্ঞমহল। কেউ কেউ বলছে একাধিক কারণের যোগসাজশে এ হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে। এদিকে হত্যাকান্ডে আগত ভ্যানচালক ও ভ্যানে কিলিং মিশনে আসা দুই কিলারের ছবি এলাকার সিসি ফুটেজ থেকে সংগ্রহ করে সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ায় সর্বত্র ক্ষুনিদের ছবি ভাইরাল হয়েছে।
এদিকে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে দিঘলিয়া থানা ও সেনহাটি পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন এবং আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ সার্কেল সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে এসে আলামত পরীক্ষা করেন। খুলনা ডিবি ও এসআরবি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হত্যার ব্যাপারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা লোকজনের নিকট জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ হাও সানওয়ার হুসাইন মাসুম এ প্রতিবেদককে জানান, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো অনেককে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত আছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল আসামী গ্রেফতার হবে এবং হত্যার রহস্য উন্মোচন হবে।