নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।। 

‎রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে এক ভ্যানচালককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে উপজেলার বালুয়াভাটা আম্বিয়ার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত আরিফুল ইসলাম (২৮) বদরগঞ্জ পৌরসভার পাঠানপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ভ্যান চালক।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ এপ্রিল টিনের দোকানঘর নির্মাণ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে লাভলু মিয়া নামে এক কর্মী নিহত হন। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলাগুলোর জের ধরেই বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার রংপুর আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যান কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য মমিনুলসহ পাঁচজন। একই সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আরেক মামলার আসামি ফিরোজ শাহ। আদালত প্রাঙ্গণে ফিরোজ শাহের অনুসারীরা মমিনুলের গ্রুপের ওপর হামলা চালালে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে মমিনুল আহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থলে আপাত মীমাংসা হলেও দ্বন্দ্ব থেমে থাকেনি।

‎আদালত থেকে বদরগঞ্জে ফিরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে মমিনুল ও তার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ফিরোজ শাহের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ফিরোজ শাহের পক্ষের লোকজনও প্রতিপক্ষকে খুঁজতে বের হন। বিকেল ৪টার দিকে বালুয়াভাটা আম্বিয়ার মোড় এলাকায় মমিনুলের লোকজন ভেবে ভ্যানচালক আরিফুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে।স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

‎ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েন বাবা রেজাউল ইসলাম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো রাজনীতি করত না, কারো সঙ্গে কোনো বিরোধও ছিল না। মমিনুলদের বাড়ির পাশে আমাদের বাড়ি হওয়ায় আমার নিরীহ ছেলেটাকে ধরে এনে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। আমার ছেলের কী দোষ ছিল? আহা রে! ওরা কেন মারল আমার ছেলেকে? ওরতো কোনো অপরাধ ছিল না।’ যারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলল, তাদের বিচার চাই কঠিন বিচার চাই। ওরা যদি ঝগড়া করে, নিজেদের মধ্যে করুক আমার নিরীহ ছেলেকে কেন মারল? আমার বুকের ধনটারে কে ফেরত দিবে?

‎বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জামাল হোসেন (২২) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, তবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।