নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় একটি গাভী গরু হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় দায়ের হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। গরু চুরির সন্দেহে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পর এবার সেই অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে পাল্টা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অভিযুক্তদের পরিবার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রীমতি বিমলা কর্মকারের একটি গাভী গরু গত ৩০ এপ্রিল বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয় শ্মশানসংলগ্ন চারণভূমি থেকে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর গরুর সন্ধান না পেয়ে তিনি একই এলাকার সাজানো গ্রামের বাসিন্দা মনির বাবু ও মমিনুল ইসলাম ওরফে পঁচাকে সন্দেহ করে বদরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব পান থানার এএসআই জুয়েল।
অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত মনির বাবুর পিতা মোঃ রফিকুল ইসলাম গত শুক্রবার বদরগঞ্জ থানায় একটি পাল্টা অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তার ছেলে মনির বাবু ও ছোট ভাই মমিনুল ইসলাম ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। সম্পূর্ণ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে এবং অন্যের প্ররোচনায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গরু উদ্ধারের দাবিতে বিমলা কর্মকার অভিযুক্তদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। এমনকি গরু ফেরত না দিলে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগে উল্লিখিত সাক্ষীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন। তার দাবি, ১ নম্বর সাক্ষী দীনেশ ঘটনার দিন এলাকায় ছিলেন না; তিনি মাছ ধরার কাজে অন্যত্র গিয়েছিলেন। এছাড়া ২ ও ৩ নম্বর সাক্ষী গীতা রানী ও বেনু রানী অভিযুক্তদের এলাকায় দেখলেও গরু চুরির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন,আমার ছেলে ও ছোট ভাইকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। একটি ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে আমাদের পরিবার মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আফসার আলী (বাবুল) বলেন,মনির ও পঁচার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আমার জানা মতে, এর আগে তাদের বিরুদ্ধে গরু বা ছাগল চুরির কোনো অভিযোগ বা খারাপ রেকর্ড নেই। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন অভিযোগে উল্লেখিত কয়েকজন সাক্ষীও। ১ নম্বর সাক্ষী মোঃ জিয়ারুল ইসলাম বলেন,ঘটনার দিন মনির আমার সঙ্গে বাড়ির উঠানে ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত ছিল।অন্যদিকে ২ নম্বর সাক্ষী নুরুজ্জামান বলেন, আমি সোনার পাথার এলাকায় পুকুরপাড়ে কাজ করছিলাম। দুপুরের দিকে মনির ও পঁচাকে ডাঙ্গার দিকে যেতে এবং বিকেলে ফিরে আসতে দেখেছি। তবে তারা গরু চুরির সঙ্গে জড়িত কিনা, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন,গরু হারানোর ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে অভিযুক্ত পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে সত্যতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।