নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।

‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রংপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ শাহকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বদরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব গোপাল ব্যানার্জি এবং বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম সম্রাটকেও সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার  (১৪ মে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

‎গত বছরের ৫ এপ্রিল টিনের দোকানঘর নির্মাণ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে লাভলু মিয়া নামে এক কর্মী নিহত হন। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ও বিরোধ চলছিল।ঘটনার দিন রংপুর আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যান কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য মমিনুলসহ পাঁচজন। একই সময়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আরেক মামলার আসামি ফিরোজ শাহসহ তার অনুসারীরা। আদালত প্রাঙ্গণে ফিরোজ শাহের অনুসারীদের সঙ্গে মমিনুল গ্রুপের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পরে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও আদালত থেকে বদরগঞ্জে ফেরার পর আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিশোধ নিতে মমিনুল ও তার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ফিরোজ শাহের বাড়িতে হামলার চেষ্টা চালায়। এরপর ফিরোজ শাহের পক্ষের লোকজনও প্রতিপক্ষের সন্ধানে বের হয়। গত ৫ মে বিকেলে চারটার দিকে  বদরগঞ্জ উপজেলার বালুয়াভাটা আম্বিয়ার মোড় এলাকায় প্রতিপক্ষের সদস্য ভেবে ভ্যানচালক আরিফুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আরিফুল ইসলাম (২৮) পৌরসভার পাঠানপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় নিহত আরিফুল ইসলামের বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া আরও পাঁচ থেকে ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। গত সোমবার (১১ মে) বিকেলে রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফ নেওয়ার জোহা ও সাধারণ সম্পাদক আফতাবুজ্জামান সুজন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গোপাল ব্যানার্জি ও বদরগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাটকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ফিরোজের বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলাসহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে। গোপাল ব্যানার্জি তিনটি হত্যা মামলার এবং মুজাহিদুল ইসলাম সম্রাট চারটি হত্যা মামলার আসামি।নজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আফতাবুজ্জামান সুজন বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কারও সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পর্ক থাকতে পারে না। এ ঘটনার পর গত ১২ মে আরিফুল ইসলাম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি গোপাল ব্যানার্জিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ও পুলিশ। নওগাঁ জেলার সীমান্তবর্তী একটি এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাসান জাহিদ সরকার জানিয়েছে, আরিফুল ইসলাম হত্যা মামলায় এখন পযন্ত ৪ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।  রাজনৈতিক অঙ্গনে এ বহিষ্কারের ঘটনায় রংপুরের বদরগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও ভাবমূর্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রিয়াদ ইসলাম / রংপুর