
ভারত কখনো বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু হতে চায়নি: এটিএম আজহারুল ইসলাম
বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, “ভারত কখনো বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু হতে চায়নি। তারা মুখে বন্ধুত্বের কথা বললেও বাস্তবে সবসময় বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী আচরণ করেছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়নি, যা তাদের প্রকৃত মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।”
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ট্যাক্সেরহাটে আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। কিন্তু ভারত সরকার বরাবরই নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ তাদের কাছে কখনোই গুরুত্ব পায়নি।
এটিএম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, “ভারতের বর্তমান হিন্দুত্ববাদী সরকার পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে এবং বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “যারা বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ভারতের প্রতি একতরফা আনুগত্য দেখিয়েছে, তারাও শেষ পর্যন্ত প্রকৃত বন্ধুত্ব পায়নি। আমরা চেয়েছিলাম, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্মান ও পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে উঠুক।”
বর্তমান সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের ফসল আজকের এই সরকার। আজ আমরা যারা জাতীয় সংসদে বসে স্বাধীনভাবে কথা বলছি, মাথা উঁচু করে চলছি—তার পেছনে রয়েছে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ।”
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই মহান সংসদে যদি জুলাই আন্দোলন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে সরকারকে কঠিন মূল্য দিতে হবে। ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামবে এবং তাদের দাবি আদায় করেই ছাড়বে। সেই আন্দোলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পূর্ণ সমর্থন নিয়ে পাশে থাকবে।”
তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, গণবিস্ফোরণের আগেই জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গ টেনে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “সারাদেশে হত্যা, ছিনতাই, ধর্ষণ, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসনকে কোনো পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তেল, মসলা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।”
সমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কোনো মানুষ যেন আমাদের আচরণে কষ্ট না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কথা ও কাজের মধ্যে মিল থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় যেন সংগঠনের ওপর না পড়ে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।”
রামনাথপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি সামসুল হক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির কামরুজ্জামান কবীর, নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মদ রুস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।