নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ। রবিবার (১৭ মে) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাতে জেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়, নাগরিক সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনবান্ধব প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগরের সেক্রেটারি আমিরুজ্জামান পিয়াল, রংপুর মহানগরের সহ-সভাপতি মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিতসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। সৌজন্য সাক্ষাতে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর দায়িত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের সফলতা কামনা করেন। একইসঙ্গে রংপুর জেলার উন্নয়ন, প্রশাসনিক সেবার মানোন্নয়ন, জনভোগান্তি নিরসন এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিতকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগরের সেক্রেটারি আমিরুজ্জামান পিয়াল বলেন, “জেলা প্রশাসন হচ্ছে সরকারের মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে প্রশাসনকে আরও বেশি দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী হতে হবে। আমরা আশা করি, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে রংপুরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।তিনি আরও বলেন, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সমস্যা দ্রুত সমাধান, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় দেশের কল্যাণ, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।”
রংপুর মহানগরের সহ-সভাপতি মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত বলেন, “সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নৈতিক সমাজ বিনির্মাণে প্রশাসনকে জনগণের আরও কাছাকাছি থেকে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া, হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা এবং ন্যায় ও সাম্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করা একজন প্রশাসকের প্রধান দায়িত্ব। আমরা আশা করি, জেলা প্রশাসন রংপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।সাক্ষাৎকালে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত বিষয়েও আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন আগত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জেলার উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনসেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণে প্রশাসনের দরজা সবসময় উন্মুক্ত থাকবে এবং আইন ও বিধিবিধানের আলোকে সবার জন্য সমান ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ রংপুরের উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে ভবিষ্যতেও পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সৌজন্য সাক্ষাৎকে রংপুরের প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, গঠনমূলক সংলাপ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।