প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ পেল ৪৩৩ পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় দরিদ্র, অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। ঈদের আনন্দ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের আওতায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়।
সোমবার (২৫ মে) সকালে বদরগঞ্জ মেরিট কেয়ার স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার শত শত অসচ্ছল পরিবারের মাঝে এ নগদ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম।
জানা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকার মোট ৪৩৩টি দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে জনপ্রতি ১ হাজার ৫শ’ টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়। রংপুর-২ সংসদীয় আসনের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকার মধ্যে বদরগঞ্জ উপজেলায় বিতরণ করা হয় ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৫শ’ টাকা। অবশিষ্ট অর্থ তারাগঞ্জ উপজেলায় বিতরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, সমাজের সব মানুষের জন্য ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করতে সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সমাজের বিত্তশালীদের আরও বেশি মানবিক ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, “ঈদ শুধু ধনী বা মধ্যবিত্ত মানুষের উৎসব নয়; সমাজের অসহায়, নিম্নআয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখেও হাসি ফোটানো আমাদের সবার দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচি অসচ্ছল মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির বার্তা বয়ে আনছে।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কষ্ট লাঘবে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ দেখা যায়। অনেকেই জানান, ঈদের আগে এমন আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় পরিবারের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও ঈদ আয়োজন কিছুটা সহজ হবে। তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের সহায়তা তাদের জন্য অনেক সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
উপকারভোগীদের একজন বলেন, “ঈদের আগে হাতে কিছু টাকা পাওয়ায় পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় বাজার করতে পারবো। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এই সহায়তা অনেক বড় পাওয়া।” ঈদকে সামনে রেখে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।