নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১, ২, ৮ ও ৯ নং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন রংপুর ৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ গোলাম রব্বানী। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে তিনি সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তার সঙ্গে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আসাদুজ্জামান শিমুল, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, সম্প্রতি বয়ে যাওয়া আকস্মিক ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মিঠাপুকুর উপজেলার ১, ২, ৮ ও ৯ নং ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু পরিবারের বসতঘর, টিনের চালা, রান্নাঘর, গবাদিপশুর ঘর, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত অনিরাপদ হয়ে পড়ে। ঝড়ের আঘাতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। দুর্যোগের এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা জানতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে মাঠে নামেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ গোলাম রব্বানী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন বাড়িঘর ঘুরে দেখেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা তাদের দুর্ভোগের নানা চিত্র তুলে ধরেন। কেউ জানান, ঝড়ের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যে তাদের বসতঘরের চালা উড়ে গেছে। কেউ বলেন, বছরের পর বছর কষ্ট করে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি চোখের সামনে ভেঙে পড়েছে। আবার অনেক পরিবার জানান, ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ গোলাম রব্বানী ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি করে। এমন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, এটি মানবিকতারও অংশ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনকেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন,দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সমস্যা সমাধানে স্থানীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং সহযোগিতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে।” এসময় উপজেলা জামায়াতের আমীর আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন,  প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন,দুর্যোগের সময় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও সহযোগিতার জন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।” পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা তুলে দেন অধ্যাপক মোঃ গোলাম রব্বানী। এ সময় সহায়তা পেয়ে অনেক পরিবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা বলেন, দুর্যোগের পর কঠিন সময় পার করছিলেন তারা। এমন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি এবং সহযোগিতা তাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক পরিবারের সদস্য বলেন, “ঝড়ে আমাদের ঘরের চালা উড়ে গেছে। বৃষ্টির মধ্যে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলাম। আজ আমাদের খোঁজ নিতে এসে সহযোগিতা করেছেন, এতে আমরা কিছুটা হলেও সাহস পেয়েছি।” আরেকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বলেন, “আমাদের মতো গরিব মানুষের পাশে কেউ দাঁড়ালে সেটাই অনেক বড় পাওয়া। আমরা চাই, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আরও সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের পর মাঠপর্যায়ে এসে মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যার কথা শোনা এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও মানবিক উদ্যোগ। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত দেন তারা। এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর একটি সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে দ্রুত পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে টেকসই ঘর নির্মাণসহ দুর্যোগ মোকাবেলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। দুর্যোগকবলিত এলাকায় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের এই মানবিক উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মুখে কিছুটা হলেও স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনতে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।