নিজস্ব প্রতিনিদি, মেয়াদ ছিল দুই বছর। কিন্তু সেই কমিটি প্রায় এক দশক ধরে বহাল রয়েছে। নতুন নির্বাচন বা দায়িত্ব হস্তান্তর ছাড়াই হাজীগঞ্জ দলিল লিখক সমিতির সভাপতি আ. গাফফার ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমিতির একাধিক সদস্যের দাবি, কার্যত সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের একক কর্তৃত্বেই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কার্যকরী কমিটির সভা কিংবা সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও নেই। তবে আর্থিক বিষয়াদি পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে সংগঠনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা পর্যায়ের নেতাদের সহায়তায় আ. গাফফারকে সভাপতি এবং বিল্লাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠিত হয়। তবে ওই কমিটি ঘোষণার পরপরই সমিতির ভেতরে বিরোধ দেখা দেয়।
এর এক মাসের মাথায় সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি এবং শাহাদাৎ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। যদিও ওই কমিটির নেতারা কয়েক দিন নিজেদের পরিচয় ব্যবহার করলেও পরে তাদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, জেলা ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের প্রভাবের কারণে বিকল্প কমিটির কার্যক্রম টিকতে পারেনি।
সমিতির কয়েকজন সদস্য বলেন, সভাপতি আ. গাফফার নামমাত্র দায়িত্বে থাকলেও সংগঠনের অধিকাংশ সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন। সংগঠনের সব বিষয়ে তাঁর একক প্রভাব রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লিখক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া, সভা না হওয়া কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। তাঁদের অভিযোগ, বিল্লাল হোসেনকে নিয়ে কেউ সমালোচনা করলে তাঁর ভাই হারুনুর রশিদ অশোভন আচরণ করেন। এ কারণে অনেকেই নীরব থাকেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় দলিল লিখক সমিতির এক নেতা বলেন, “২০১৬ সালে আ. গাফফার ও বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের পর হাজীগঞ্জে আর কোনো নতুন কমিটি হয়নি।” তবে কেন দীর্ঘ ১০ বছরেও নতুন নির্বাচন বা কমিটি গঠন করা হয়নি—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর তিনি দিতে পারেননি।
সমিতির সদস্যদের দাবি, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হোক। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে তাঁদের মত।

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সভাপতি আ. গাফফার ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।