নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।। 

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৮০০ গ্রাম গাঁজাসহ এক কুখ্যাত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, রংপুর। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ হাজার টাকা। সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মৌয়াগাছ ঝলঝলিপাড়া গ্রামে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে থাকা মাদক কারবারি শ্রী রহি দাস চন্দ্র শীলের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় তার নিজ দখলীয় সেমিপাকা এল-আকৃতির চার কক্ষবিশিষ্ট বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত দক্ষিণমুখী একটি কক্ষের ভেতরে রাখা স্টিলের ট্রাংকের মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

 

অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, একটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগের মধ্যে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাদকদ্রব্যটি রাখা ছিল। ঘটনাস্থলেই ডিজিটাল নিক্তির মাধ্যমে ওজন করে ৮০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত আলামত আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়।

 

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি শ্রী রহি দাস চন্দ্র শীল (৫২) উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৌয়াগাছ ঝলঝলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত লাল বাবু শীল ও মৃত জ্ঞানো বালার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলেও এবার হাতেনাতে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ তাকে আটক করতে সক্ষম হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক এস.এম. এলতাস উদ্দিন।

 

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নিয়মিত নজরদারি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে মাদকের বিস্তার রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

 

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, রংপুরের উপপরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, “মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী ও পৃষ্ঠপোষক—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। রংপুর জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।”

 

তিনি আরও বলেন, “মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন। কেউ মাদক ব্যবসা বা মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানলে তা প্রশাসনকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বদরগঞ্জসহ রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা মনে করেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ধারাবাহিক ও কঠোর অবস্থান বজায় থাকলে যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

 

এদিকে গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্তে মাদক সরবরাহ চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা এবং কোথা থেকে এসব মাদক সংগ্রহ করা হতো, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে রংপুর জেলা জুড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও আইন প্রয়োগের সমন্বিত উদ্যোগই পারে একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ নিশ্চিত করতে।