নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর।।
পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সবুজায়নের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কারমাইকেল কলেজ শাখার উদ্যোগে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ‘বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি-২০২৬’ পালিত হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপিত গাছের যথাযথ পরিচর্যার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর সভাপতি আনিসুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি মাহমুদুল হক মাসুম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী বলেন, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। পরিবেশ দূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগগুলোর একটি। তিনি বলেন, “শুধু একটি দিনের কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সামাজিক আন্দোলন হিসেবে বৃক্ষরোপণকে গ্রহণ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আনিসুর রহমান বলেন, একটি গাছ মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, পরিবেশকে নির্মল রাখে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুল হক মাসুম বলেন, কারমাইকেল কলেজ শাখা শিক্ষার্থীদের নৈতিক, সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “সবুজ ক্যাম্পাস ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ছাত্রশিবিরের এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
পরে কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। তাই দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিককে সবুজায়ন আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এমন উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।