সুমন হোসেন,

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)-এর আদর্শ এবং প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রগঠনের প্রত্যয়কে ধারণ করে পরিচালিত প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের জাতীয় প্ল্যাটফর্ম ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (NEAB)-এর কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন যশোরের অভয়নগরের কৃতি সন্তান প্রকৌশলী ইরফান কাদির।

সম্প্রতি সংগঠনটির ৭৯ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদিত হলে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন। জাতীয় পর্যায়ের প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের একটি প্ল্যাটফর্মে অভয়নগরের একজন তরুণ প্রকৌশলীর অন্তর্ভুক্তি স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন মহল মনে করছে, এ দায়িত্বের মাধ্যমে অভয়নগরের প্রতিনিধিত্ব জাতীয় পর্যায়ে আরও সুদৃঢ় হবে।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন এবং NEAB-এর দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই দায়িত্বকে তিনি ব্যক্তিগত অর্জন বা পদমর্যাদা হিসেবে নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে এটি আগামী বাংলাদেশের নির্মাণযাত্রায় আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখার একটি সুযোগ বলে তিনি মনে করেন।

প্রকৌশলী ইরফান কাদির জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের জন্য জ্ঞান, দক্ষতা, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তি এবং নৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাকে আরও সুস্পষ্ট করেছে। রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও জাতীয় উন্নয়নের ধারায় তরুণ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব বর্তমানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), অটোমেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক ও উদ্ভাবকদের সুসংগঠিত, গবেষণাভিত্তিক ও সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করা সময়ের অপরিহার্য দাবি।

তার মতে, NEAB শুধু একটি পেশাজীবী সংগঠন নয়; এটি গবেষণাভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার একটি শক্তিশালী থিংক-ট্যাংক, জাতীয় উন্নয়ন ভাবনার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের নীতি-আলোচনার কেন্দ্র এবং তরুণ উদ্ভাবক ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

তিনি জানান, সংগঠনের মূল লক্ষ্য হবে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাতে নীতিগত অবদান বৃদ্ধি, একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের দক্ষতা ব্যবধান কমানো, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা।

মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পেশাজীবী সংগঠনের দায়িত্বের সমন্বয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি সকলের দোয়া, পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “প্রযুক্তি, জ্ঞান ও উদ্ভাবনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা একটি সমৃদ্ধ ও সক্ষম বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে চাই। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে এমন একটি দায়িত্বে অভয়নগরের একজন তরুণ প্রকৌশলীর অন্তর্ভুক্তি এলাকার তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।