নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।। 

‎দেশ ও জাতির কল্যাণে আদর্শবান, দক্ষ ও মানবিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী সাথী শিক্ষাশিবির-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক উন্নয়ন, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ শিক্ষাশিবিরে রংপুর মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক সাথী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটিএম আজম খান। প্রধান বক্তা ছিলেন মুহাম্মদ ইবরাহীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আনিসুর রহমান।

‎শিক্ষাশিবিরে বক্তারা বলেন, একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজন আদর্শবান নাগরিক এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব। আর সেই নেতৃত্ব গড়ে ওঠে ছাত্রজীবন থেকেই। তাই শিক্ষার্থীদেরকে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না থেকে নৈতিকতা, চারিত্রিক উৎকর্ষ, দেশপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম আজম খান বলেন, “জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের শিক্ষার্থীদের ওপর। শিক্ষার্থীরা যদি সৎ, দক্ষ ও আদর্শিকভাবে সমৃদ্ধ হয়, তাহলে দেশও সঠিক নেতৃত্ব পাবে। ব্যক্তি জীবনে সততা, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদেরকে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি চরিত্র গঠন ও নৈতিক উৎকর্ষ অর্জনে মনোযোগী হতে হবে। যে জাতির তরুণ সমাজ যত বেশি সচেতন ও আদর্শবান, সেই জাতি তত বেশি অগ্রসর ও সম্মানিত।”

‎প্রধান বক্তা মুহাম্মদ ইবরাহীম বলেন, “শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো ছাত্রজীবন। এ সময়ের সঠিক ব্যবহার একজন মানুষকে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের আসনে নিয়ে যেতে পারে। তাই আত্মশুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা, সময়ানুবর্তিতা এবং দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদেরকে যুগোপযোগী নেতৃত্ব হিসেবে প্রস্তুত করতে হবে।তিনি বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু সনদ অর্জন নয়, বরং একজন মানুষকে নৈতিক, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিকে পরিণত করা। সমাজ ও রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তনে তরুণদেরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন আদর্শিক দৃঢ়তা, মেধার বিকাশ এবং সেবার মানসিকতা।”

‎সভাপতির বক্তব্যে আনিসুর রহমান বলেন,ছাত্রশিবির সবসময় শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, চরিত্র ও নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। সাথী শিক্ষাশিবিরের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সমাজ পরিবর্তনের চেতনা জাগ্রত করার চেষ্টা করা হয়। একটি কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্মকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।”

‎দিনব্যাপী এ শিক্ষাশিবিরে কোরআন অধ্যয়ন, দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য, নেতৃত্ব উন্নয়ন, সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষাবিষয়ক কর্মশালা, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সেশনে বক্তারা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত উন্নয়ন, সময় ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ববোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং জাতি গঠনে শিক্ষার্থীদের করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। শিক্ষাশিবিরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন তাদের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখে এবং ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে নতুন অনুপ্রেরণা জোগায়। দিনব্যাপী কার্যক্রম শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং মানবজাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।