নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।

‎রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বরড়া ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. রায়হান কবির মিল্টনের প্রচারণা দিন দিন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। একদিকে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, অন্যদিকে সামাজিক ও ক্রীড়ামূলক আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা—সব মিলিয়ে তিনি নিজেকে জনসংযোগমুখী ও উন্নয়নকেন্দ্রিক প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার সোঠাপীর সোনার বাংলা যুবসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত জমকালো ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে তিনি যুবসমাজকে মাদকমুক্ত ও শরীল ও মন সুস্থ রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নির্বাচিত হলে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনসেবামুখী ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

‎গত ৯ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় লোহানীপাড়া ইউনিয়নের সোঠাপীর সোনার বাংলা যুবসংঘের ক্লাব প্রাঙ্গণসংলগ্ন মাঠে আয়োজিত হয় আকর্ষণীয় এই ফুটবল ম্যাচ। স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করা, মাদক ও অপরাধপ্রবণতা থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখা এবং সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ম্যাচ ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাঠজুড়ে উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাস, খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স এবং আয়োজকদের প্রাণবন্ত তৎপরতায় এটি স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য একটি স্মরণীয় আয়োজন হয়ে ওঠে।

‎খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কলে বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. রায়হান কবির মিল্টন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক ধারায় ধরে রাখতে খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা তরুণদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ, সহমর্মিতা ও দলগত মনোভাব গড়ে তোলে। একই সঙ্গে খেলাধুলা তরুণদের মাদক, সহিংসতা, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মত দেন।

‎রায়হান কবির মিল্টন বলেন, “আজকের তরুণরাই আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল শক্তি। তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে মাঠভিত্তিক খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়াতে হবে। একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে স্থানীয় ক্লাব, সংগঠন ও সমাজের সচেতন মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সোঠাপীর সোনার বাংলা যুবসংঘ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা শুধু প্রশংসনীয়ই নয়, বরং অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।”

‎তিনি আরও বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে যুবসমাজকে শুধু রাজনৈতিক স্লোগানে নয়, বাস্তব উন্নয়ন, দক্ষতা, সামাজিক নেতৃত্ব ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। খেলাধুলা সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি সোনার বাংলা যুবসংঘের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই ধরনের আয়োজন গ্রামীণ সমাজে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি করে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

‎মাঠে দর্শকের ঢল, আয়োজকদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

‎খেলাটি উপভোগ করতে স্থানীয় বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক ক্রীড়ামোদী দর্শক মাঠে উপস্থিত হন। তরুণদের পাশাপাশি শিশু, কিশোর, প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মাঠটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। দর্শকদের অনেকেই জানান, এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ জনপদে একঘেয়েমি দূর করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিসর তৈরি করে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অবসর বিনোদনের সুযোগ কম, সেখানে স্থানীয় ক্লাবভিত্তিক খেলাধুলা সামাজিক সংযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

‎আয়োজক ক্লাবের কর্মকর্তারা জানান, তাদের উদ্দেশ্য কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা নয় বরং যুবসমাজকে সুস্থ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে মাদক, মোবাইল আসক্তি, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা থেকে তরুণদের দূরে রাখতে মাঠভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম, সামাজিক সচেতনতা এবং সাংগঠনিক চর্চা জরুরি হয়ে উঠেছে। এ কারণে সোনার বাংলা যুবসংঘ নিয়মিতভাবে ক্রীড়া, সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ভবিষ্যতেও ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট, সাংস্কৃতিক আয়োজন, রক্তদান, গাছ লাগানো, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তরুণদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তারা।

‎নির্বাচনী প্রচারণায় উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জনসেবার বার্তা

‎ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রায়হান কবির মিল্টনের প্রচারণাও সমানতালে চলছে। তিনি গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ করছেন, উঠান বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন এবং স্থানীয়দের সমস্যার কথা শুনে তা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। প্রচারণাকালে তিনি একটি বিষয়ই বারবার তুলে ধরছেন—লোহানীপাড়া ইউনিয়নকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক ও সেবামুখী ইউনিয়ন পরিষদে রূপান্তর করার অঙ্গীকার।

‎মিল্টন বলেন, “জনগণের সেবা করাই আমার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য। আমি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হতে চাই না; আমি পুরো ইউনিয়নের মানুষের প্রতিনিধি হতে চাই। নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমানভাবে উন্নয়ন নিশ্চিত করব। ইউনিয়ন পরিষদকে মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক, উন্মুক্ত এবং কার্যকর সেবাকেন্দ্রে পরিণত করাই হবে আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, লোহানীপাড়া ইউনিয়নের উন্নয়ন নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এলাকার বাস্তব চাহিদা, জনগণের মতামত এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েই তিনি কাজ করতে চান। তাঁর মতে, একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন সেই উন্নয়নের সুফল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ মানুষও সমানভাবে ভোগ করতে পারবে।

‎লোহানীপাড়ার বাস্তবতা: কৃষিনির্ভর জনপদে উন্নয়নের বহুমুখী চাহিদা

‎বদরগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নগুলোর একটি ১৫ নম্বর লোহানীপাড়া ইউনিয়ন। প্রায় ৩৩ দশমিক ০৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ ইউনিয়নে ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ২৬ হাজার ২১৭ জন। ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে মহদীপুর, লোহানীপাড়া, কচুয়া, কাঁচাবাড়ী, মাদাইখামার, বাতাসন, মোসলমারী, ঘিরনই, পানারহাট ও মধ্যটাড়ী। কৃষিনির্ভর এই ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, দিনমজুরি ও শ্রমনির্ভর পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে এখানে অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি সহায়তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা—সবকিছুই স্থানীয় মানুষের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের মতে, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এখনো কাঁচা ও জরাজীর্ণ সড়ক, ড্রেনেজ সমস্যাজনিত জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির সীমাবদ্ধতা, স্যানিটেশন সমস্যা, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাব, তরুণদের বেকারত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সরকারি সেবার স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রত্যাশা রয়েছে। এসব বাস্তবতার কথা বিবেচনায় নিয়েই চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রায়হান কবির মিল্টন তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরছেন।

‎অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে সামাজিক নিরাপত্তা বিস্তৃত পরিকল্পনার কথা মিল্টনের

‎রায়হান কবির মিল্টন বলেন, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়নে কাজ করবেন। তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, নতুন সড়ক নির্মাণ, ব্রিজ-কালভার্ট সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, উন্নত স্যানিটেশন, গ্রামীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ তিনি বলেন, কৃষিনির্ভর লোহানীপাড়ায় কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই কৃষকদের জন্য সেচ, বীজ, সার, আধুনিক কৃষি পরামর্শ এবং সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা কার্যক্রম সহজলভ্য করার বিষয়ে তিনি কাজ করতে চান। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজার, খাল-নালা, গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের সুযোগ বৃদ্ধিতেও জোর দেওয়ার কথা জানান।

‎যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা

‎বর্তমান সময়ে তরুণদের কর্মসংস্থানকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউনিয়নের তরুণদের শুধু ভোটের রাজনীতির অংশ নয়, উন্নয়নের অংশীদার হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান, সরকারি দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মমুখী কার্যক্রম চালুর বিষয়ে তিনি কাজ করতে চান। তাঁর ভাষায়, যুবসমাজকে যদি দক্ষ, সচেতন ও আত্মনির্ভরশীল করা যায়, তাহলে ইউনিয়নের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত বদলে যাবে। একই সঙ্গে মাদক, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়নও সম্ভব নয়।

‎শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় অগ্রাধিকার

‎রায়হান কবির মিল্টন বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে তিনি বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে চান। ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক উন্নয়ন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবেন। একই সঙ্গে কমিউনিটি ক্লিনিকসহ স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা সহজ করা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সহায়তা সম্প্রসারণেও উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদকে জনগণের জন্য সত্যিকার অর্থে সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সরকারি ভাতা, ভিজিএফ, ভিজিডি, টিসিবি ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে কঠোর নজরদারি থাকবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতের সুযোগ রাখা হবে না।

‎‘প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে চাই’

‎গণসংযোগ ও মতবিনিময়কালে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে রায়হান কবির মিল্টন বলেন, আমি প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করতে চাই না, কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। উন্নয়নের ক্ষেত্রে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনগণের মতামত, পরামর্শ ও প্রয়োজনের ভিত্তিতেই ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, তাঁর লক্ষ্য একটি আধুনিক, নিরাপদ, দুর্নীতিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও সেবামুখী ইউনিয়ন গড়ে তোলা। এ জন্য তিনি ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।

‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও ইতিবাচক সাড়া

‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রায়হান কবির মিল্টন দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার নানা সামাজিক, মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং দুর্যোগকালে সহায়তা দেওয়ার মতো বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে নির্বাচনী প্রচারণায়ও তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে তাঁদের দাবি। স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি, উন্নয়ন পরিকল্পনার স্পষ্টতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ—এই চারটি বিষয় রায়হান কবির মিল্টনের প্রচারণাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে খেলাধুলা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর বক্তব্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন তারা।

‎সামাজিক সম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী বার্তার সমন্বয়ে দৃশ্যমান প্রচারণা

‎সোঠাপীর সোনার বাংলা যুবসংঘের ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ এবং একই সময়ে ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে ধারাবাহিক গণসংযোগ—এই দুই কার্যক্রমে চেয়ারম্যান প্রার্থী রায়হান কবির মিল্টনের সক্রিয় উপস্থিতি লোহানীপাড়ায় তাঁর প্রচারণাকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সামাজিক সম্পৃক্ততা, ক্রীড়াবান্ধব অবস্থান, জনসংযোগমুখী আচরণ এবং উন্নয়নকেন্দ্রিক প্রতিশ্রুতির সমন্বয়ে তিনি ইউনিয়নের ভোটারদের কাছে নিজেকে একজন সক্রিয়, গ্রহণযোগ্য ও জনমুখী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে, লোহানীপাড়া ইউনিয়নে একদিকে যেমন ক্রীড়াচর্চা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে এগোচ্ছে স্থানীয় যুবসংঘের আয়োজন, অন্যদিকে তেমনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. রায়হান কবির মিল্টন। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই প্রচারণা ও প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলে।