নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসকের আদেশে ট্যাক্সিক্যাব স্ট্যান্ডের ইজারা বাতিল হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে বন্ধ হয়নি এর কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদপুর শহরের ওয়ারলেস বাজার এলাকায় ভোররাত থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং রাত ৯টার পর থেকে সারারাত সড়কের পাশে অবৈধভাবে ট্যাক্সিক্যাব স্ট্যান্ড পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত যানজট, জনদুর্ভোগ ও সড়ক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

চাঁদপুর পৌরসভার ২১ জুন জারি করা এক স্মারকে গাছতলা-ওয়ারলেস ট্যাক্সিক্যাব স্ট্যান্ডের ইজারাদার মো. শাহাবুদ্দিনের ইজারা বাতিল করা হয়। পৌরসভার আদেশে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গাড়ি রেখে যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করায় তিনি ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে ইজারা বাতিল করা হয়।

তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনিক আদেশটি কার্যত কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ইজারা বাতিলের পরও আগের মতোই ওয়ারলেস বাজার এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব স্ট্যান্ড পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নয়ন ও সুমন নামে দুই ব্যক্তি স্ট্যান্ডটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রতিদিন ভোররাত থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং রাত ৯টার পর থেকে সারারাত সড়কের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। এতে ব্যস্ত সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, সড়কের পাশে অবৈধভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, পৌর প্রশাসক যেখানে ইজারা বাতিল করেছেন, সেখানে কীভাবে এখনও প্রকাশ্যে একই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে?

এলাকাবাসীর মতে, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগ থাকলে ইজারা বাতিলের পর এভাবে প্রকাশ্যে অবৈধ স্ট্যান্ড পরিচালনার সুযোগ থাকার কথা নয়। ফলে আদেশ বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক নজরদারির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন ও সুমনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন বলেন, “এই অভিযোগ আমার কাছেও এসেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে দুই দিন অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু তখন পাওয়া যায়নি। খুব ভোরে নাকি এটা হচ্ছে। বিষয়টি আমি পুলিশ সুপার, সার্কেল এএসপি, ট্রাফিক ইন্সপেক্টরকে জানিয়েছি বেশ কয়েকবার। পৌরসভার পক্ষ থেকে পুনরায় অভিযান করব। ”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে ওয়ারলেস বাজার এলাকা থেকে অবৈধ ট্যাক্সিক্যাব স্ট্যান্ড উচ্ছেদ এবং পৌরসভার ইজারা বাতিলের আদেশ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে যানজট কমবে, জনদুর্ভোগ লাঘব হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।