নিজস্ব প্রতিনিধি:চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের পাইকদী গ্রামের ডাবেগো বাড়ির বাসিন্দা শহীদা বেগম (৬০) ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে শনিবার (২৫ জুলাই) চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
থানায় দাখিল করা অভিযোগে শহীদা বেগম উল্লেখ করেন, তার ছেলে শাহ আলম ও পুত্রবধূ মুন্নি দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা নিয়মিত তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, অপমান-অবমাননা এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, পুত্রবধূ মুন্নি প্রায় দুই-এক দিন পরপরই তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করতেন। ছেলে শাহ আলম এসব নির্যাতনে বাধা না দিয়ে বরং সহযোগিতা করতেন। অনেক সময় তিনিও মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ নির্যাতনের কারণে তিনি চরম মানসিক যন্ত্রণা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে শাহ আলম তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেন। এতে গভীর রাতে তিনি আশ্রয়হীন অবস্থায় পড়েন। বর্তমানে তিনি নিজের জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তার আশঙ্কা, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে তার প্রাণনাশসহ আরও গুরুতর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।
অসহায় এই বৃদ্ধা তার ছেলে শাহ আলম ও পুত্রবধূ মুন্নির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, তার ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধ, নিজ বাড়িতে নিরাপদে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত এবং জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, “একজন বৃদ্ধা মায়ের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, অভিযোগের প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।