**প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের রাজনীতি করতে চাই।
**আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার।
**গণসংযোগে, ভোটারদের প্রত্যাশা শুনে উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর লোহানীপাড়া ইউনিয়নে নির্বাচনী আবহ ক্রমেই প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা যখন ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরতে ব্যস্ত, তখন উন্নয়নমুখী ভাবনা, জনসম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক রায়হান কবির (মিল্টন)। ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসা রায়হান কবির মিল্টন এবার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন উন্নয়ন, সুশাসন ও জনসেবার অঙ্গীকার নিয়ে। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড, গ্রাম ও পাড়ায় নিয়মিত গণসংযোগের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা, চাহিদা ও সম্ভাবনার কথা শুনছেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমধর্মী গণসংযোগে কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ইমাম, ব্যবসায়ী, নারী, যুবক, শিক্ষার্থী, প্রবীণ নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আসুন, ভালোবাসি আমাদের ইউনিয়নকে—গড়ে তুলি উন্নয়নের নতুন ভবিষ্যৎ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পরিচালিত তাঁর প্রচারণা ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন, তাঁদের মতামত নিচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।
সম্প্রতি সাহেবগঞ্জ এলাকায় গণসংযোগকালে রায়হান কবির মিল্টন বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, মানুষের সেবার লক্ষ্য নিয়েই আপনাদের মাঝে এসেছি। জনগণের ভালোবাসা, দোয়া ও আস্থা থাকলে একটি ইউনিয়নের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। আমি এমন একটি ইউনিয়ন গড়তে চাই, যেখানে ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ—সকল মানুষ সমান মর্যাদা ও সেবা পাবেন। তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি হওয়া আমার কাছে ক্ষমতা ভোগের বিষয় নয় এটি মানুষের দেওয়া একটি পবিত্র আমানত। সেই আমানতের যথাযথ মূল্যায়ন করাই হবে আমার প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়নের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবো। জনগণের মতামত নিয়েই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”
রায়হান কবির মিল্টনের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গঠন। তিনি বলেন,“জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি প্রকল্পের হিসাব জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাশত করা হবে না। ইউনিয়ন পরিষদ হবে জনগণের সেবাকেন্দ্র, কোনো ব্যক্তির ক্ষমতার কেন্দ্র নয়। তিনি আরও জানান, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করা হবে।
নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিয়নের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি। আধুনিক ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কাঁচা, ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ সড়ক সংস্কার এবং নতুন সড়ক নির্মাণ। ড্রেনেজ, স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা উন্নত করা। কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সেচ সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা। বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। সরকারি ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ইউনিয়ন পরিষদের সকল সেবা ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দ্রুত ও সহজলভ্য করা। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।
মাদক, জুয়া ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
গণসংযোগে অংশ নেওয়া মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “আমি এমন একটি ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মাদক, জুয়া, চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের কোনো স্থান থাকবে না। যুবসমাজকে ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তাঁর মতে, একটি উন্নত ইউনিয়ন কেবল রাস্তা-ঘাট নির্মাণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না; বরং নৈতিকতা, সুশাসন, সামাজিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। গণসংযোগকালে বিভিন্ন গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বাস্তব সমস্যার কথা শুনছেন রায়হান কবির মিল্টন। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনের আগে নয়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন।