রংপুর প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে দলটির জেলা ও মহানগর নেতারা বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে হামলার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

মঙ্গলবার ২৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে পুনরায় প্রেসক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

মিছিল শেষে প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগর শাখার সদস্যসচিব আব্দুল মালেক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আলমগীর নয়ন এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি।

বক্তারা বলেন, হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য উদ্বেগজনক। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য নয়।

সমাবেশে বক্তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তাদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। তারা বলেন, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা ঘটলেও যদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

 

বক্তারা আরও বলেন, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনসহ ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন নেতার রাজনৈতিক অবদান দেশের মানুষ জানে। তাদের দাবি, এসব নেতার ওপর হামলা কেবল ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপরও আঘাত।

 

সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু নেতাকর্মী জড়িত রয়েছে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং আইনের শাসনের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

বক্তারা বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, হামলা, ভয়ভীতি কিংবা সন্ত্রাসের মাধ্যমে জনগণের ন্যায্য দাবি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করা যাবে না। আমরা শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক উপায়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

 

তারা আরও বলেন, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার পরিবর্তে সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। মতপার্থক্য থাকলেও তার সমাধান হতে হবে আলোচনা, সংলাপ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন নয়, বরং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।