নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রংপুরে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় নগরীর সিটি বাজারস্থ দলীয় কার্যালয় ও সিটি পার্ক চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান, আত্মত্যাগ ও গণপ্রতিরোধের মধ্য দিয়ে সে সময়কার সরকারের পতন ঘটে এবং দীর্ঘ সময়ের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হয়। এই দিনটি দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা, পুনর্বাসন এবং তাদের পরিবারের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়; এটি ছিল বৈষম্য, অন্যায়, দমন-পীড়ন ও স্বৈরাচারবিরোধী গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রতীক। এ আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা।
সমাবেশে নেতারা আরও বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই জাতীয় ঐক্যকে যে কোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান ঘটতে দেওয়া যাবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আহত জুলাইযোদ্ধাদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সমাবেশে জুলাইযোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে দুর্নীতি, বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রংপুর মহানগরের সহ-সভাপতি মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল দেশের মানুষকে অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন প্রেরণা দেওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে থাকবে ইনসাফ, গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, মানবিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন। শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে এবং দেশের মানুষকে বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান, তাদের পরিবারের নিরাপত্তা, আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা একটি গণমিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা বলেন, মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা শুধু স্মরণে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার মাধ্যমে সেই চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। তাহলেই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশের পথে।