মহানগর ও জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিভাগীয় উপকমিটির মতবিনিময়; জবাবদিহিতা, শৃঙ্খলা ও তৃণমূল নেতৃত্ব শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
গণঅধিকার পরিষদের রংপুর মহানগর, জেলা এবং সহযোগী সংগঠন যুব অধিকার পরিষদ ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রংপুর বিভাগীয় উপকমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক জবাবদিহিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়েও নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনা হয়। বিশেষ করে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য হানিফুর রহমানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, জেলা কমিটিকে পারিবারিকীকরণ এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে জবাবদিহিতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হানিফুর রহমান হানিফের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সভায় নেতৃবৃন্দের আলোচনায় উঠে আসে, রাজনৈতিক সংগঠনের শক্তি নির্ভর করে তার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, তৃণমূলের সক্রিয়তা, নেতৃত্বের জবাবদিহিতা এবং দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর। তাই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে দলীয় নীতি, গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও রংপুর উপবিভাগীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মোঃ সাকিব হোসাইন সভায় সংগঠনের সামগ্রিক সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকৃত শক্তি হচ্ছে তৃণমূলের নেতাকর্মী। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত তখনই কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, যখন জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় থাকে। তাই রংপুর বিভাগের প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটকে সক্রিয় করে তুলতে হবে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি সংগঠনের অভ্যন্তরে দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। কোনো সাংগঠনিক দায়িত্বকে ব্যক্তিগত ক্ষমতার উৎস হিসেবে ব্যবহার না করে সংগঠনের স্বার্থে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে তা যেন বিভাজন বা সাংগঠনিক সংকটে পরিণত না হয়, সেজন্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।
রংপুর বিভাগে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার জন্য মহানগর, জেলা ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর উপবিভাগীয় কমিটির সমন্বয়ক মাসুদ মোন্নাফ সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি আরও বলেন, সংগঠনের কার্যক্রম শুধু সভা-সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মসূচি, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, নতুন কর্মী সম্পৃক্তকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি রংপুর বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমস্যা, মতামত ও পরামর্শও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পৌঁছানো প্রয়োজন বলে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মাসুদ মোন্নাফের বক্তব্যের আলোচ্য বিষয় অনুযায়ী, সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়া প্রত্যেক নেতাকর্মীকে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। ব্যক্তিগত মত, অভিমান কিংবা স্বার্থের কারণে যেন দলীয় কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাজী মোঃ কামাল হোসেন সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক আস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠনে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বিরোধ, বিভাজন বা সাংগঠনিক অস্থিরতা তৈরি হলে তা পুরো সংগঠনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে তা সাংগঠনিক ফোরামে আলোচনা করে সমাধান করা উচিত।
তিনি দলীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। নেতৃত্বের প্রতি যেমন আস্থা থাকা প্রয়োজন, তেমনি নেতৃত্বের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা জরুরি।
সংগঠনের প্রত্যেক পর্যায়ের নেতাকর্মীকে দলীয় নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে—এমন বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রংপুর উপবিভাগীয় কমিটির সদস্য মোঃ আশরাফুল আলম রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব দেন।তিনি আরও বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু পরিচিত বা শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের ওপর নির্ভর করলে হবে না; তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় করতে হবে। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম চালু রাখা এবং নতুন কর্মীদের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করা সম্ভব।
তিনি নতুন নেতৃত্ব তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন। তরুণ ও উদ্যমী নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া এবং তাদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের জন্য কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
রংপুর মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মোঃ ইয়াছিন আলী মহানগর পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে মতামত দেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় প্রয়োজন। সংগঠনের কর্মসূচি সফল করতে হলে প্রত্যেক পর্যায়ের নেতাকর্মীকে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করতে হবে।
মহানগরের বিভিন্ন ইউনিটকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি নিয়মিত সভা ও সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গণঅধিকার পরিষদ রংপুর মহানগরের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোঃ আল এমরান সুজন সংগঠনের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয় থাকলে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা সহজ হয়। তাই ব্যক্তিগত মতপার্থক্যকে সাংগঠনিক বিভাজনে রূপ না দিয়ে বৃহত্তর সংগঠনের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি মহানগরের নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। সংগঠনের কার্যক্রমকে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রংপুর মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সদস্য সচিব আনোয়ার চৌধুরি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সংগঠনের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি।
তিনি নেতাকর্মীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক দূরত্ব কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি সংগঠনের যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ যথাযথ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় উত্থাপন ও সমাধানের প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় আসে।
গণঅধিকার পরিষদ রংপুর জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খাদেমুল আরিফ পলাশ জেলা পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে মতামত দেন।তিনি আরও বলেন, জেলা পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু জেলা শহরকেন্দ্রিক কার্যক্রম নয়, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে হবে। তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে তাদের সমস্যা ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন কর্মী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। মাঠপর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম যত বেশি বিস্তৃত হবে, সাংগঠনিক ভিত্তিও তত শক্তিশালী হবে বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
রংপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সদস্য সচিব মোঃ আশিকুর রহমান সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার আলোকে সংগঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত দেন।তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতি নেতাকর্মীদের আস্থা ধরে রাখতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
কোনো অভিযোগ বা মতবিরোধ দেখা দিলে সেটিকে ব্যক্তিগত বিরোধে পরিণত না করে সাংগঠনিকভাবে যাচাই-বাছাই করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য শোনার মাধ্যমে সমাধান করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রংপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মোঃ আবু সাইদ সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরাই সংগঠনের বাস্তব পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন। তাই তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি দলীয় ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তিগত বিরোধ বা মতপার্থক্যকে পাশ কাটিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
রংপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান যুবকদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই যুবকদের শুধু কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী হিসেবে নয়, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়ে দক্ষ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি তরুণদের মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতা, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে যুব অধিকার পরিষদের কার্যক্রমকে জেলা থেকে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
সভায় সংগঠনের উচ্চতর পরিষদের সদস্য হানিফুর রহমান হানিফকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, জেলা কমিটিকে পারিবারিকীকরণ এবং দলীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
নেতৃবৃন্দের আলোচনায় বলা হয়, কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিরোধে পরিণত না করে সাংগঠনিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যক্তি নয়, সংগঠনকেই অগ্রাধিকার
মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—সংগঠনের নেতৃত্ব ও কমিটি পরিচালনায় ব্যক্তি বা পারিবারিক প্রভাবের পরিবর্তে দলীয় নীতি ও সাংগঠনিক কাঠামোকে প্রাধান্য দেওয়া।
নেতারা মনে করেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতি নেতাকর্মীদের আস্থা ধরে রাখতে হলে নেতৃত্ব নির্বাচনে যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মতৎপরতা ও তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্বকে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে রংপুর বিভাগে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়ে নেতৃবৃন্দ একমত হন। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে নিয়মিত সাংগঠনিক সভা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, নতুন কর্মী সম্পৃক্তকরণ, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সংগঠনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন বিভাজনে পরিণত না হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আলোচনা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব ধরনের মতবিরোধ নিরসন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, রংপুরে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে হলে মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে হবে। একই সঙ্গে যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের মতো সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে একটি সুসংগঠিত সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা, নেতৃত্বের জবাবদিহিতা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে রংপুর বিভাগে গণঅধিকার পরিষদের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।