নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কচুয়া নয়াপাড়ার কিশোর-তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে তাদের হাতে ফুটবল তুলে দিয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী রায়হান কবির মিল্টন। তরুণ প্রজন্মকে মাদক, নেশা ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এ উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রায়হান কবির মিল্টনের পক্ষ থেকে ফুটবলটি কিশোরদের হাতে তুলে দেন তাঁর ঘনিষ্ঠ ছোট ভাই মোস্তাকিন। নিজ উদ্যোগে ও সময় দিয়ে মোস্তাকিন কচুয়া নয়াপাড়ার কিশোরদের হাতে ফুটবলটি পৌঁছে দেন।
জানা গেছে, কচুয়া নয়াপাড়ার যুবকদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল একটি ফুটবল পাওয়ার। তারা খেলাধুলার জন্য একটি ফুটবল দেওয়ার আবদার জানিয়েছিল রায়হান কবির মিল্টনের কাছে। কিন্তু প্রায় দুই মাস ধরে ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাইরে থাকায় তাদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটাতে পারেননি তিনি। তবে ব্যস্ততার মধ্যেও ছোট ভাইদের সেই আবদারের কথা মনে রেখেছিলেন মিল্টন। পরে তাঁর পক্ষ থেকে ফুটবলটি তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ফুটবল পাওয়ার পর কচুয়া নয়াপাড়ার কিশোরদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা নিয়মিত ফুটবল খেলার পাশাপাশি নিজেদের অবসর সময়কে ইতিবাচক কাজে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে রায়হান কবির মিল্টন বলেন, “আমাদের ইয়ং জেনারেশন ও ছোট ভাইয়েরা মাদক, নেশা এবং সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকুক—এটাই আমার প্রত্যাশা। তারা খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী হোক, খেলাকে ভালোবাসুক এবং খেলাধুলাকে নিজেদের জীবনের অংশ হিসেবে ধারণ করুক।”
তিনি বলেন, “তরুণদের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠে থাকলে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সহযোগিতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি হয়। তাই আমাদের সবাইকে তরুণদের মাঠমুখী করতে উৎসাহ দিতে হবে।”
রায়হান কবির মিল্টন আরও বলেন, “আজকের ছোট্ট একটি ফুটবল হয়তো বড় কোনো বিষয় নয়। কিন্তু এই ছোট্ট উদ্যোগ যদি একজন তরুণকে খেলার মাঠে রাখতে পারে, যদি তাকে নেশা ও খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখতে পারে, তাহলে সেটিই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন।”
তিনি মনে করেন, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় নেতৃত্ব—সবার সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। শুধু মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই হবে না, তরুণদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগও তৈরি করতে হবে।
এলাকাবাসীও এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমানে কিশোর-তরুণদের একটি অংশ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়া গেলে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
রায়হান কবির মিল্টন কচুয়া নয়াপাড়ার কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরাই আগামী দিনের শক্তি। তোমাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সুন্দর সমাজ। তাই খেলাধুলার সঙ্গে থাকো, ভালো কাজের সঙ্গে থাকো এবং নিজেদের যোগ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলো।”
একটি ফুটবলকে কেন্দ্র করে কচুয়া নয়াপাড়ার কিশোরদের মধ্যে যে আনন্দ ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে, সেটিকে ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা—এ ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার তরুণরা আরও বেশি মাঠমুখী হবে এবং একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে।