বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি;

রংপুরের বদরগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার পর তাঁর বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোঃ আমির হামজা (৩০) নামে এক ব্যবসায়ী বদরগঞ্জ থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মোটরসাইকেল পুড়িয়ে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ক্ষতি এবং বাড়ি থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আমির হামজা বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মাদাইখামার এলাকার মোঃ মমিনুল হকের ছেলে। তিনি লোহানীপাড়া মহিশনার বিল লিজ নিয়ে মাছ চাষের পাশাপাশি বদরগঞ্জে ওষুধের ব্যবসা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে আমির হামজার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তিনি চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নষ্ট করে দেওয়া এবং সুযোগ পেলে তাঁকে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আমির হামজা কুতুবপুর নাগেরহাট বাজারে যান। সেখানে জনৈক আলা উদ্দিনের চায়ের দোকানের সামনে তাঁর ব্যবহৃত ১৫০ সিসি মোটরসাইকেলটি রেখে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা সেখানে এসে তাঁর কাছে চাঁদার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমির হামজার অভিযোগ, অভিযুক্তদের একজনের নির্দেশে অপর একজন মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাংক খুলে ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে মোটরসাইকেলটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে তাঁর প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

এরপর তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা ধাওয়া করলে তিনি প্রাণভয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্তরা তাঁকে খুঁজতে তাঁর বাড়িতে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, বাড়ির সদর দরজা দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভেতরে থাকা আমির হামজার স্ত্রী মোছা. ইশরাত জাহানা নিশা ও তাঁর মা মোছা. শাহিনা বেগম দরজা খুলে দেননি। পরে অভিযুক্তরা বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এরপর তাঁরা আমির হামজার শয়নকক্ষে ঢুকে ঘরের মালামাল তছনছ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারীর দাবি, এ সময় শয়নকক্ষের সুকেসের ড্রয়ারে থাকা তাঁর স্ত্রীর এক ভরি ওজনের স্বর্ণের হার, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ টাকা, আট আনা ওজনের স্বর্ণের দুল, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা এবং ব্যবসার নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ খোয়া গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এ ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাঁর স্ত্রী ও মাকে হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। থানায় কিংবা আদালতে এ বিষয়ে মামলা করলে আমির হামজা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ করা হবে—এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে অভিযোগে কুতুবপুর নাগেরহাট এলাকার মোঃ আশিক মিয়া, মনোজ চন্দ্র ও মোঃ অহিদুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মাদাইখামার এলাকার মোঃ সহিদুল হাজী ও মোঃ আপেল মিয়াসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

 

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, দুই পক্ষ অভিযোগ দিয়েছে তাদের দলীয় বিষয় যেহেতু তারা দুই পক্ষ বসে সমাধান করবে, নেতারাও এটার সমাধান দিতে চেয়েছে মামলা হলে দুইটা অভিযোগের এ মামলা রেকর্ড হবে।

 

অভিযোগকারী আমির হামজা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁর ব্যবসার আয়-উন্নতি ভালো হওয়ায় একটি পক্ষ তাঁর কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। সর্বশেষ তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। একজন ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, রাতে বাড়িতে প্রবেশ এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অগ্নিসংযোগ, চাঁদা দাবি, বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মালামাল নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।