দিঘলিয়া প্রতিনিধি: খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অতর্কিত হামলার ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাজিরহাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী হামিদপুর ইউনিয়নের ইসরাইল মোল্লার নেতৃত্বে প্রায় ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাজিরহাট কাঁঠালতলা ঈদগাহ মাঠের সামনে সাব্বির মোল্লার দোকানে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় রিপন মোল্লা, শরিফুল মোল্লা, সোহাগ শেখ, সাব্বির মোল্লা, হারুন, ইমরুলসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের আরও অভিযোগ, হামলাকারীরা দোকানে থাকা সরকার নির্ধারিত ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির দুই লাখ টাকারও বেশি অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।
হামলায় আহতদের মধ্যে মিজায় মুন্সির ছেলে সাব্বির মুন্সি ও মুত্তাহীন মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর গাজিরহাট বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে খুলনা জেলা পুলিশের এক প্লাটুন সদস্য, স্থানীয় থানা ও ফাঁড়ির অতিরিক্ত পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে, হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে বুধবার(২৬ আগষ্ট) দুপুরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গাজিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুকিত মীর, দপ্তর সম্পাদক মো. মাছরুল সিকদার, মহাসিন শিকদার, রোকা গাজী, বখতিয়ার শিকদার, জনি মোল্লা, টিংকু ভূঁইয়া, মোরসালিন শেখসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।
সমাবেশ থেকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার গাজিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা গাজীর মুক্তির দাবিতেও বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৪ আগস্ট) সৈয়দ রাছেল আলী বাদী হয়ে বাদশা গাজীকে প্রধান আসামি করে মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে দিঘলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ৪৪৮, ৩০৭, ৩২৩, ৩৭৯, ৪২৭, ৫০৬ ও ১১৪ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটির নং ৯।
মামলায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক নম্বর, দুই নম্বর ও পাঁচ নম্বর আসামি যথাক্রমে মো. বাদশাহ গাজী (৪২), মো. আকবর গাজী (৪৬) ও শরিফুল ইসলাম খুলনার বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, আসামিদের কারাগারে পাঠানোর দিনই সন্ধ্যায় গাজিরহাটে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে হামলার সঙ্গে মামলা ও আসামিদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।