রংপুর ব্যুরো: আঃ রাজ্জাক (রিয়াদ) 

‎আলোচিত মডেল, অভিনেত্রী ও রাজনীতিক ব্যক্তি মেঘনা আলমের ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যকে ঘিরে আবারও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের সাবেক রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলানের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে সম্প্রতি মেঘনা আলমের দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাস নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

‎এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাইদের ভাই আবু হোসেন। মেঘনা আলমের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষ সাধারণত নিজেকে কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির ছেলে-মেয়ে কিংবা নিজে কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেয়। কিন্তু মেঘনা আলম নিজেকে সৌদি রাষ্ট্রদূতের ‘গার্লফ্রেন্ড’ ছিলেন এভাবে পরিচয় দিচ্ছেন। আবু হোসেন ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদ ত্যাগী মানুষের দল। মেঘনা আলমের মতো অহংকারী এবং উদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তা বলা লোক গণঅধিকার করার যোগ্যতা রাখে না।’

‎২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে শহীদ আবু সাইদের নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। আন্দোলনের সময় পুলিশের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাইদের দৃশ্য দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার মৃত্যুর পর ছাত্র-জনতার আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে সেই আন্দোলন ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।

‎গত ১১ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মেঘনা আলম দাবি করেন, তিনি সৌদি আরবের সাবেক রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলানের বাগদত্তা ছিলেন। একই স্ট্যাটাসে তিনি একজন মন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তোলেন, তার দিকে কুনজর দেওয়ার সাহস কার আছে। মেঘনা আলম লিখেছেন, ‘কোন মন্ত্রীর সাহস আছে, একজন সৌদি রাষ্ট্রদূতের গার্লফ্রেন্ডের দিকে কুনজর দিবে? তার উপর আমি তার বাগদত্তা। আমি চাইলেও, না চাইলেও, আমার লাইফে ওনলি ঈসা আলদুহাইলানই ছিল।’ তার এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে কোন মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন কিংবা কী ঘটনার প্রেক্ষাপটে ওই বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে স্ট্যাটাসে বিস্তারিত কিছু জানাননি মেঘনা আলম।

‎এর আগে গত ২৩ আগস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসের কারণেও আলোচনায় এসেছিলেন মেঘনা আলম। ওই স্ট্যাটাসে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও অভ্যাস নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘ভাই আমি সারাজীবন ছিলাম ভার্জিন, মদ সিগারেট কিছুর অভ্যাস নেই, টাকা পয়সার বিষয়েও ভয়ঙ্কর দানশীল, যতটুকু পৈতৃক সম্পদ আছে তাই ব্যবহার করিনা। হুমকি দিয়ে লাভ নেই কোনো, আমি একটু খারাপ খারাপের সাথে!’

‎সাম্প্রতিক স্ট্যাটাসে ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলানের নাম সরাসরি উল্লেখ করায় মেঘনা আলমের সঙ্গে সৌদি আরবের সাবেক রাষ্ট্রদূতের কথিত সম্পর্কের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। এর আগে তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছিল। নতুন করে দেওয়া মেঘনা আলমের বক্তব্য এবং শহীদ আবু সাইদের ভাই আবু হোসেনের সমালোচনামূলক মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।