দৈনিক ইবি নিউজ :
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ শরণখোলার সীমান্ত ধানসাগর গ্রামে বুধবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ২ টি দোকান সম্পূর্ন পুড়ে গিয়ে ছাই। এতে ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা দাবী করেন। রাত ২ টা ১৫ মিনিটে শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসের ১টি টিম ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূবেই ততক্ষনে দোকান ২টি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ছালেহীন মলীøক রুমি ও শহীদ হাওলাদার সহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক বিচারের দাবী জানান।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন বুধবার দিবাগত রাত্র দেরটার দিকে মোরেলগঞ্জ সীমান্তে ধানসাগর গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের ছেলে ব্যবসায়ী মল্লীক স্টোরের মালিক ছালেহীন মলীøক রুমির মুদী মনোহারী ও জ্বালানী তেল, গ্যাস, স্টেশনারী মালামাল সহ দোকান ঘরটি দূর্বৃত্তদের দেওয়া অগ্নিকান্ডে সম্পূর্ন পুড়ে যায়। এ সময় পশেই থাকা এস,এম টেলিকম পিসি বারইখালী গ্রামের শহীদ হাওলাদারের ইলেকট্রিক্স দোকান ঘরটি পুড়ে গিয়ে ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ী ছালেহীন মলীøক প্রতিদিনের ন্যায় রাত সাড়ে দশটার দিকে দোকান বন্ধ করে দোকান সংলগ্ন বাড়িতে চলে যায়। হঠাৎ রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে শব্দ শুনে ঘুম ভেংগে দরজা খুলে দেখতে পায় আগুনে তার দোকান ঘরটি জ্বলছে। এ সময় তিনি ডাকচিৎকার দিলে স্থানীয় গ্রাম বাসীরা জড় হয়ে পানি দিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দিলে ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌছানোর পূর্বেই দোকন ঘর ২টি সম্পূর্ন পুড়ে যায়।ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ছালেহীন মল্লিক রুমি বলেন, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী শত্রুতায় তার দোকানে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে তার দোকানের টিভি, ফ্রিজ, চাল, ডাল, গ্যাস সিলিন্ডার সহ পাইকারী, খুচরা বিক্রয়ের মালামাল পুড়ে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। পাশেই তার ভাড়াটিয়া শহীদ হাওলাদারের ইলেকট্রিক্স এর দোকানের মালামাল পুড়ে তার ও প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার তিনি তদন্ত পূর্বক বিচারের দাবী জানিয়েছেন প্রশাসনের প্রতি। তিনি আরও বলেন ২০১৭ সালের ধানসাগর ইউনিয়ন তাঁতীলীগের সভাপতি দায়িত্ব পালন করায় কয়েকদিন আগে আমার ছেলে ও আমাকে মারধর করেছে। শত্রæতা মূলত ও রাজনৈতিক জেরে প্রতিপক্ষ এ অগ্নিকান্ড ঘটিয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। ওই ব্যবসায়ীর ছেলে সেতারা আব্বাস টেকনিক্যাল কলেজের এইচ,এস,সি পরীক্ষার্থী তামিম মল্লিক বলেন পরীক্ষার ফরম ফিলাপের শেষ দিন ছিল আজ, অথচ ফরম ফিলাপ করতে যেতে পারিনি। রাতেই দুর্ঘটনায় আমাদের নিস্বঃকরে দিছে শত্রæরা। প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।
ধানসাগর ও পিসি বারইখালী গ্রামের স্থানীয় বৃদ্ধ সামছুল হক হাওলাদার, আব্দুল করিম হাওলাদার, সুলতান খান, মোঃ শাহা আলম, মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার, শাহ আলম তালুকদার সহ একাধিকরা ক্ষোভের সহিত বলেন এ কেমন শত্রæতা একটি মানুষের সব কিছু পথে বসিয়ে দিয়ে নিশ্ব করে দিয়েছে এ পরিবারটিকে। প্রশাসনের নিকট আমরা এ ঘটনার তদন্ত পূর্বক ন্যায় বিচার চাই।শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আফতাব-ই আলম বলেন, ধানসাগর গ্রামে অগ্নিকান্ডে দোকান পুড়ে যাওয়ার বিষয়ে ৯৯৯ ফোন পেয়ে ওই রাতেই ঘটনাস্থলে তিনি সহ ১০ ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের একটি টিম সোয়া দুটোর দিকে পৌছায়। অনেক দূরের পথ বিধায় ঘটনাস্থলে জাবার পূবেই দোকন ঘর ২টি পুড়ে সম্পূর্ন মাটিতে বসে যায়। তবে অগ্নিকান্ডে সূত্রপাত বৈদ্যতিক সর্টসার্কিট থেকে হতে পারে বলে ধারনা করছেন।