রংপুর প্রতিনিধি:
তীব্র শৈত্যপ্রবাহে যখন সারাদেশের জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে নদী তীরবর্তী দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ। কনকনে ঠান্ডা বাতাস, ঘন কুয়াশা আর চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে প্রতিদিন জীবন যাপন করতে হয় তাদের। ঠিক এমনই কঠিন সময়ে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজয় টেলিভিশনের রংপুর ব্যুরো এবং রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সমাজকর্মী পিএম হামিদুর রহমান হামিদ। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল এবং নিজ এলাকার অতি দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
চলতি শীত মৌসুমে এই মানবিক কর্মসূচির আওতায় শতাধিক (১০০) শীতার্ত মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় উষ্ণ কম্বল। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের এসপারের বাঁধ সংলগ্ন তিস্তা চরাঞ্চল এবং পলাশী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পৃথকভাবে এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গম চরাঞ্চলে নৌপথ ও কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয় প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে। শীতবস্ত্র বিতরণ চলাকালে দেখা যায়, নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য দরিদ্র মানুষ কম্বলের আশায় ভিড় করছেন। অনেকের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ।শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পিএম হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিবছরই শীত মৌসুমে সবচেয়ে বেশি কষ্টে থাকে। নদীভাঙন, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে তাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত দুর্বিষহ। অনেক পরিবার পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে রাত কাটায় খোলা আকাশের নিচে। এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, মানবিক উদ্যোগ ছোট হলেও এর প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি সামান্য সহযোগিতা নিয়েও এগিয়ে আসে, তাহলে শীতার্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শীত মৌসুমে তিস্তা চরাঞ্চলে তাপমাত্রা হঠাৎ করেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। নদীর ওপর দিয়ে বয়ে আসা হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা এবং কাঁচা ঘরবাড়ির কারণে চরবাসীদের জীবন হয়ে পড়ে দুর্বিষহ। অধিকাংশ মানুষ দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিক হওয়ায় কাজ কমে যায় শীতকালে। ফলে অর্থাভাবে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র কিনতে পারে না। এই বাস্তবতায় পিএম হামিদুর রহমান হামিদের শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি চরাঞ্চলের মানুষের জীবনে স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শীতবস্ত্র পেয়ে উপকারভোগীরা আবেগাপ্লুত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বয়স্ক ফজিলা বেগম বলেন,তিস্তার দিক থেকে খুব ঠান্ডা বাতাস আসে। রাতে শরীর কাঁপে, ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। এই কম্বল পেয়ে এখন একটু শান্তিতে থাকতে পারবো। অপর উপকারভোগী আজিজার হোসেন বলেন, আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুক। এই শীতে আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য কম্বল অনেক বড় সহায়তা। পলাশী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলফা বেগম স্থানীয় ভাষায় বলেন,এই কম্বল কোনা পাইনু। আল্লাহ তোমার ভালো করুক। এবার একনা জার থেকে কাটি উঠিম। কম্বল পেয়ে তিনি খুশিতে দোয়া করে চলে যান। শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার লুৎফর রহমান,বাইতুল মোকাররম পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদের ইমাম হোসেন আলী,অত্র মসজিদের সভাপতি পিএম হামিদুর রহমান হামিদ, সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আসাদ, আবেদুজ্জামান আবেদ, রফিকুল ইসলাম, শাহজাহান আলী সহ এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ। এলাকাবাসী জানান, পিএম হামিদুর রহমান হামিদ প্রতিবছরই নিজ উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। তার এই ধারাবাহিক উদ্যোগ চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের মাঝে আস্থা ও ভরসার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের আরও বিত্তবান মানুষ এসব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।