বেনজীর আহমেদ মুকুল দিঘলিয়া প্রতিনিধি:খুলনার দিঘলিয়ায় নৃশংসভাবে খুন হওয়া ব্যবসায়ী ও সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদ হোসেনের জানাজা নামাজ ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আসর বাদ উপজেলার হাজীগ্রাম ঈদগাহ ময়দানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে হাজীগ্রাম মাদ্রাসা ও ঈদগাহ সংলগ্ন কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ এলাকার শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। এছাড়াও জেলা ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খাইরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এবাদুল হক রুবায়েত, দিঘলিয়া থানা বিএনপির সভাপতি এম সাইফুর রহমান মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মল্লিকসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
জানাজা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আজিজুল বারী হেলাল এমপি এই হত্যাকাণ্ডকে একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এভাবে প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হত্যাকারী যে-ই হোক না কেন এবং সে যত বড় ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তার কোনো ছাড় নেই। তিনি অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
একই সময়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এবাদুল হক রুবায়েত তাঁর বক্তব্যে মুরাদ হোসেনের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের কঠিন সময়ে খুলনার রাজপথে যে অল্প সংখ্যক নেতাকর্মী আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, মুরাদ হোসেন ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সংসদ সদস্য একজন শান্তিকামী মানুষ এবং তিনি সবসময় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। পুলিশ প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। প্রশাসন যদি সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, তবে এমন প্রশাসনের প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সেনহাটি বকশীবাড়ি মাদ্রাসার সামনে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুরাদ হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পথেরবাজারসহ কয়েকটি ঘাটের ইজারা (শিডিউল) কেনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি পক্ষের সাথে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দিঘলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।