ইবি ডেস্ক: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করলো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে শত্রুদেশের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হওয়ার এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ মার্চ) শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী ভারত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর এক অতর্কিত হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ সমুদ্রের তলদেশে তলিয়ে গেছে। যদিও পেন্টাগন এখন পর্যন্ত হামলাকারী সাবমেরিনটির নাম প্রকাশ করেনি, তবে প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, টর্পেডোর আঘাতে যুদ্ধজাহাজটির মূল কাঠামো দ্বিখণ্ডিত হয়ে বিশাল জলরাশি আকাশে উঠে যাচ্ছে। ছবি:সংগ্রহিত
পেন্টাগনের এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সফল আক্রমণকে ‘নীরব মৃত্যু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গিতে জানান যে, ব্যবহৃত টর্পেডোটি লক্ষ্যবস্তুতে ‘তাৎক্ষণিক প্রভাব’ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, জাহাজটিতে থাকা আনুমানিক ১৮০ জন ক্রুর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩২ জন ইরানি নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ইউএস নেভি হিস্ট্রি অ্যান্ড হেরিটেজ কমান্ডের রেকর্ড অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন সাবমেরিন ‘ইউএসএস টস্ক’ জাপানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছিল। এরপর থেকে স্নায়ুযুদ্ধসহ বিভিন্ন সংঘাতময় সময়ে মার্কিন সাবমেরিনগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল গোয়েন্দা মিশন এবং টমাহক মিসাইল নিক্ষেপের কাজে ব্যবহৃত হলেও জাহাজ ডোবানোর জন্য টর্পেডোর ব্যবহার এই প্রথম।
জেনারেল কেইন নিশ্চিত করেছেন যে, এই হামলায় ‘মার্ক-৪৮’ হেভিওয়েট টর্পেডো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় ৩,৮০০ পাউন্ড ওজনের এই আধুনিক টর্পেডোটি সোনার প্রযুক্তির মাধ্যমে জাহাজের নিচে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়ে এর মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়, যার ফলে জাহাজটি দ্রুত দুই টুকরো হয়ে ডুবে যায়। প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, পানিতে পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ার ঠিক আগে ইরানি জাহাজটির সামনের অংশটি খাড়াভাবে ওপরের দিকে উঠে ছিল।