রানা ইসলাম বদরগঞ্জ রংপুর প্রতিনিধি:
কয়েক দিন পরও ঈদ।রংপুরে বদরগঞ্জে পৌরশহরে অভিজাত বিপনিবিতানগুলোতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। বিশেষ করে দুপুরে ও সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এসময় বিভিন্ন পন্য বিক্রি করতে দোকানীরা ব্যাস্ত সময় পার করছেন।
কয়েকজন দোকানী বলেন,গত বছরের এ সময়ে বিভিন্ন বিপণী বিতানে বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এবার বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে রাত একটা পর্যন্ত ভিড় থাকছে।কয়েকজন দোকানের মালিক জানান,কদিন পর ঈদ। কিন্তু ক্রেতারা কাপড় পছন্দ করতে যেভাবে যাচাই-বাছাই করছেন সেভাবে কিনছেনও না। ভিড়ের তুলনায় বিক্রির গতি কম।ঘুরেফিরে দেখছেন,দাম শুনেই চলে যাচ্ছেন।এর মধ্যে নারী ক্রেতা বেশি।
দিনে গ্রামে থেকে আসা ক্রেতারা শহরে দোকানগুলোতে এসে তাদের ছেলে মেয়ের জন্য পছন্দের কাপড় ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। আর সন্ধ্যার পর পৌর শহরের বাসিন্দারা কাপড় ক্রয় করতে আসছেন। এর মধ্যে নারী ক্রেতা সংখ্যা বেশি
ঈদ সামনে রেখে বদরগঞ্জ পৌর শহরে বিভিন্ন বিপনী বিতানের দোকানেরগুলতে বর্নিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে । এর মধ্যে ফিরোজ মার্কেট, মীর মার্কেট,মা ম্যানশন, আলম মার্কেট,পুরাতন বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে ঘুরে দেখা যায় দোকানীগুলো ক্রেতাদের কাছে কাপড় বিক্রয় করতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন।বধুয়া বস্তালয় মালিক খোকন মিয়া বলেন,গত বছরের তুলনায় এবার তুলনা মূলক বিক্রি ভালো।তিনি বলেন,মেয়েদের থ্রিপিস ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে।গ্রাহকগন তাদের পছন্দের থ্রি পিস টু পিস ক্রয় করার সময় একটু দাম বেশি করে নিচ্ছে।সূর্যমূখী ক্লোথ ষ্টোর মালিক শফিকুল ইসলাম ময়না জানান,গত বছর রমজান মাসে প্রথম সপ্তাহ থেকে বেচাকেনা শুরু হয়। এ বছর রমজানের আগে থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। আশা করা যায় আর ১০ দিনে ঈদের বাকি রয়েছে বেচাকিনা ভালো হবে। তিনি বলেন,এখন ক্রেতাদের যে ভিড় দেখছেন তাতে চাকরিজীবী সংখ্যা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
ফারিয়া ক্লোথ ষ্টোর মালিক ডাবলু চৌধুরী বলেন,বর্তমান বাজারে জিনিসপত্র দাম একটু ঊর্ধ্বগতি এজন্যে বেচাকেনা ধীরে ধীরে জমে উঠেছে। আশা করা যায বাকি দিনগুলো বেচাকেনা ভালো হবে।
কলেজ শিক্ষার্থী জিনিয়া তাবাসসুম বলেন,এবারে ঈদে কার চুপি ও সিকোয়েন্স থ্রিপিস বেশি চলছে।আমার বান্ধবীরা সবাই এদুটো থ্রিপিস বেশি কিনছেন।আমি নিজেও একটি সিকোয়েন্স থ্রিপিস কিনছে।
রাধানগর লালদিঘি এলাকা থেকে হাবিব নামে এক ব্যাক্তি জানান,আমি বদরগঞ্জ পৌর শহরে মা ম্যানশন এর মৌসুমী গার্মেন্টস থেকে আমার দুই মেয়ের জন্য দুটি টুপিস ক্রয় করলাম।দাম তুলনামূলক ভাবে একটু কমে আছে।রিকশাচালক সেকেন্দার আলী বলেন,পৌরশহরে অনেক রিকশা ভ্যান চলে।আয় একটু কম।তারপরও শেষের দিকে এসে ছেলে মেয়ের জন্য কাপড় কিনতে হবে।বদরগঞ্জ কাপড় ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান বলেন,গত বছরের চেয়ে কাপড় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু কাস্টমার কাছে বেশি লাভ হচ্ছে না।তারপর ঈদের দশদিন বাকি আছে আশা করি বেচাকেনা বাড়বে।তিনি আরো বলেন,ক্রেতা বিক্রেতা আন্তরিক সৌহার্দ্যপূর্ন সম্পর্ক বজায় রেখে কাপড় বিক্রি করছেন।বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান জাহিদ সরকার বলেন, মার্কেটগুলোর আশপাশে সাদা পোশাকে পুলিশ নজরদারি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো।