রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, (কলকাতা) পশ্চিমবঙ্গ: আজ ২৮শে ডিসেম্বর রবিবার, সকাল সাড়ে দশটায়, লেডি ডাফরিন হাসপাতালের বিপরীতে, ১৪৮ নম্বর রাজা রামমোহন রায় স্মরণীর সংযোগস্থলে, কংগ্রেস বেদী মূলের সামনে, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড ব্লক কংগ্রেস ও রাজ্য আই এন টি ইউ সি সেবাদলের যৌথ উদ্যোগে- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ১৪১ তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করলেন।
যে জাতীয় কংগ্রেসের সৃষ্টি হয়েছিল আজ থেকে ১৪০ আগে এই দিনে, এশিয়ার প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উদ্ভব হয়, মুম্বাইয়ের গোকুল দাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজের প্রখ্যাত আইনবিদ উমেশচন্দ্র ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে । ১৪০ বছর ধরে বহু প্রতিকূলতা, ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়নে নিমিত্ত পথ কংগ্রেস দেখিয়েছে। দেশের প্রান্তিক মানুষের উন্নতিকে লক্ষ্য রেখে, গ্রামরাজই রামরাজ- এই স্লোগানকে পাথেয় করে জাতীয় কংগ্রেস এগিয়ে চলেছে আজও।
প্রতিষ্ঠা দিবসে উপস্থিত ছিলেন – রাজ্য আই এন টি ইউ সি সেবা দলের সভাপতি প্রমোদ পান্ডে, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড কংগ্রেস কমিটি প্রেসিডেন্ট ভীম সেন বারিক, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শংকর নাথ হাজরা, শিলা চক্রবর্তী ,সোমা দে সহ আই এন টি ইউ সি সেবাদলের ও কংগ্রেসের সদস্যরা। আজকের দিনে জাতীয় পতাকা ও কংগ্রেসের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে শুভ সূচনা করেন।
আজকের এই প্রতিষ্ঠা দিবসে। একটি কবিতা সবার উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন।
“হিন্দু না ওরা মুসলিম, ওই জিজ্ঞাসে কোন জন।
কান্ডারি বলো ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মার”
হিন্দু- মুসলিম-বাঙালিদে মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশকে শেষ করতে বসেছে যে দল, সে হচ্ছে আরএসএস ও বিজেপি। গরিবদের পেটে লাথি মেরে, গরিবদের উন্নয়নকে নষ্ট করে, নিজেদের ফায়দা লুটার চেষ্টা করছেন, গরিবদের প্রকল্পকে নিজের নামে করার চেষ্টা করছেন, জাতীয় কংগ্রেসের তরফ থেকে ধিক্কার জানাই, তাই নয়, আজকের এই প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রতিবাদ জানাই, যারা মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দিতে চাইছে, তাই আজকের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ভীম সেন বারিক উনি বাঙালি ও উড়িয়া তিনি কয়েকটি বার্তা দিলেন উড়িয়া ভাষায় ঐক্যের বার্তা, সেই সঙ্গে সমগ্র বঙ্গবাসী এবং উৎকল বাসীদের বললেন, বিজেপির বিভাজনের রাজনীতিকে তুলে ছুঁড়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিতে, যাতে তা ভেসে ভেসে তাদের মালিক ব্রিটিশদের কাছে আবার পৌঁছে যায়। যেভাবে বাঙ্গালীদের উপর নিপীড়ন চালাচ্ছে, এস আই এর নামে বাঙ্গালীদের গলা টিপে মারছে, গরিব মানুষের পেটের ভাত মারার চেষ্টা করছেন, সমস্ত দেশকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বিদেশিদের হাতে, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ও মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। ভারতবর্ষে হাহাকার দেখা দিয়েছে, তাই আমরা আজকের প্রতিষ্ঠা দিবসে গর্জে উঠি, সকল হতে দেব না। তাই সকলে একসাথে বিজেপির বিভাজনের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানাই ও প্রতিবাদ করুন।
কেউ প্রশ্ন তুলেছে যে বিজেপি এক লক্ষ কোটি টাকার MGNREGA বন্ধ করে, সাত লক্ষ কোটি টাকা নিজের পছন্দের কর্পোরেটকে ছাড় দিচ্ছে কি করে। দেশকে টুকরো টুকরো করার খেলায় মেতেছে বিজেপি। এমনকি বাংলাদেশের বদলা বিজেপি শাসিত রাজ্যে হচ্ছে, বর্তমানে আমরা কি দেখেছি, দেশভাগের নির্মমতা ভারতবাসীকে পরাভূত করতে পারেনি নরেন্দ্র মোদির শাসনে, সেই বিভাজনের রাজনীতি ভারতে জাঁকিয়ে বসেছে, আমাদের সব ভারতবাসীর কাছে চ্যালেঞ্জ, এই বিভাজনকামী শক্তিকে পরাভৃত করে বিবিধতার মধ্যে ঐক্যর ভারত আত্মার চিরন্তন ধারাটিকে অনুসরণ করা।তাহারা বলেন বাংলাদেশে বা আফগানিস্তানে যখন ভারত বন্ধু সরকারের পতন হয়, তখন নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোন।
আর সেই ব্যর্থতার প্রায়শ্চিত্য কি ময়মনসিংহের শ্রমিক ভাই দীপু দাসের হত্যার বদলা নিতে, উড়িষ্যায় নিরীহ নির্মাণকর্মী জুয়েল শেখ কে খুন করতে হবে। কোথাও কোন রাজনৈতিকে ছেলে কিন্তু মারা যায়নি, দিপু এবং জুয়েল দুজনেই হতদরিদ্র শ্রমিক পরিবারের সন্তান, তারা পেটের জ্বালায় বিদেশে ক্রমিকের কাজ করতো, পরিবারকে দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য।কিন্তু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও রাজ্য আই এন টি ইউ সেবা দলের কর্মীরা ও সদস্যরা এই সকলের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদে গর্জে ওঠে , রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাই, তাহারা গরীব মানুষের পাশে চিরদিন থাকার চেষ্টা করে, আজও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠছেন ,লড়াই করছেন। আজকের এই প্রতিষ্ঠা দিবসে বলেন অন্যায়কে আমরা কখনো প্রশ্রয় দেব না, অবিলম্বে একশো দিনের প্রকল্প চালু করে , গরিব মানুষদের কাজে নিযুক্ত করতে হবে, এবং পাওনা টাকা মেটাতে হবে।, আর কোন কিছু বেসরকারি দের হাতে যেতে দেব না, এই সকল কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গবদ্ধ হতে বললেন, আজকের মঞ্চ থেকে।