আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোরঃ
যশোরের মনিরামপুর থানায় সংঘটিত রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শুটারসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, চাকু ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ২৮ মিনিটে মনিরামপুর থানাধীন কপালিয়া বাজার এলাকায় ঝুমা বিউটি পার্লারের সামনে রানা প্রতাপ বৈরাগী দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে গুলি করে। পরে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার, যশোরের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও মনিরামপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), যশোরের এসআই (নিঃ) মোঃ কামরুজ্জামান ও এএসআই (নিঃ) লাবলুর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে রাজশাহী জেলার তানোর থানাধীন মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে মোঃ মাহমুদ হাসান হৃদয় (২৮) ও মোঃ শামীম হুসাইন (৩১) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ফোল্ডিং চাকু এবং একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়ি যশোর জেলার অভয়নগর থানাধীন ৪ নম্বর পায়রা ইউনিয়নের বারান্দি এলাকায়। তারা হলো—
মোঃ মাহমুদ হাসান হৃদয় (২৮), পিতা হাবিবুর রহমান, মাতা মমতাজ বেগম এবংমোঃ শামীম হুসাইন (৩১), পিতা মৃত শহিদুল ইসলাম, মাতা আছিয়া বেগম।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।