নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর।।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ নিয়ে মন্তব্য করেছেন আল মকবুল তাহফিজুল কুরআন একাডেমী ও হিফজ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ কোনোভাবেই মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হতে পারে না এটি একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন মাত্র, যার সঙ্গে ইসলামের ইবাদত বা ধর্মীয় বিধানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মঙ্গলবার (১৪৩৩ বাংলা সনের বৈশাখের প্রথম দিন) ফেসবুকে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এ ছাড়াও আর ইসলামের অনেক উৎসব আছে। এই উৎসবগুলো সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা নির্ধারিত এবং এগুলোর সঙ্গে মুসলমানদের ইবাদত, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন ও উৎসবের মাধ্যমে মুসলমানদের মাঝে ভিন্নধর্মী চর্চা প্রবেশ করছে। অনেকেই না বুঝেই এসব কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে, যা তাদের ঈমান ও আকীদার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মুফতি মুহিত জোর দিয়ে বলেন, মুসলমানদের উচিত নিজেদের ধর্মীয় সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং ইসলামবিরোধী বা সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি আমাদের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্তির মধ্যে পড়বে।
তিনি তরুণ সমাজের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আধুনিকতার নামে অনেক সময় এমন কিছু বিষয় গ্রহণ করা হচ্ছে, যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই তরুণদের উচিত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করা এবং আলেমদের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করা।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সন্তানদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখবেন না। বরং তাদেরকে ইসলামী শিক্ষা, নৈতিকতা ও আদর্শিক মূল্যবোধে গড়ে তুলুন। তাহলেই তারা সঠিক পথ খুঁজে পাবে। মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করেন এবং যেকোনো সাংস্কৃতিক চর্চা গ্রহণের আগে তা ইসলামের দৃষ্টিতে যাচাই করেন।