রংপুর প্রতিনিধি: রিয়াদ ইসলাম
দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রতকরণ এবং কুরআনের হিফজ শিক্ষাকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে রংপুর মহানগরের কদমতলা বাজার বুড়িরহাট সড়ক সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আল মকবুল তাহফিজুল কুরআন একাডেমি ও হিফজ মাদ্রাসা। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১০টায় নবনির্মিত নিজস্ব ক্যাম্পাসের উদ্বোধন উপলক্ষে এক ধর্মীয় ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ক্যাম্পাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এশিয়া মহাদেশের খ্যাতিমান শায়েখ ক্বারী আব্দুল হক (হাফিজাহুল্লাহ)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত (দামাত বারাকাতুহুম)। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন, সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার বিশিষ্ট আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, অপরাধপ্রবণতা ও মূল্যবোধের সংকট মোকাবিলায় দ্বীনি শিক্ষার বিকল্প নেই। একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক পরিবেশে কুরআন শিক্ষা প্রদান সময়ের অপরিহার্য দাবি। তারা বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সমাজে নৈতিকতা, আদর্শ এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি সালেহ আহমাদ মুহিত তার বক্তব্যে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, বহুদিনের স্বপ্ন ও পরিকল্পনার বাস্তব রূপ আজকের এই উদ্বোধন। আমরা এমন একটি শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল কুরআন হিফজই করবে না, বরং কুরআনের শিক্ষা ও আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করতে শিখবে। এখানে অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমে সহিহ তিলাওয়াত, হিফজ, তাজবিদসহ প্রয়োজনীয় দ্বীনি শিক্ষা প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা একটি আদর্শ হিফজ মাদ্রাসা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে গড়ে তুলতে চাই। অভিভাবকদের আস্থা অর্জনই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শায়েখ ক্বারী আব্দুল হক (হাফি:) বলেন, কুরআনের খেদমত করা সবচেয়ে সম্মানজনক দায়িত্বগুলোর একটি। যারা কুরআনকে বুকে ধারণ করে, তারা আল্লাহর বিশেষ প্রিয় বান্দা। একটি হিফজ মাদ্রাসা শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি আত্মশুদ্ধির কেন্দ্র। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রতিষ্ঠান থেকে এমন হাফেজ তৈরি হবে, যারা সমাজে ন্যায়, সত্য ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেবে। তিনি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সফলতা কামনা করে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও তাকওয়া অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা নবনির্মিত ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই মাদ্রাসা রংপুর অঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের মতে, আল মকবুল তাহফিজুল কুরআন একাডেমির এই নতুন ক্যাম্পাস চালুর মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলে কুরআন শিক্ষার প্রসার আরও বেগবান হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।