পবিত্র মাহে রমজানের ফজিলত, তাৎপর্য এবং পবিত্র কোরআনের শিক্ষা মানুষের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে রংপুরের হারাগাছ এলাকায় এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-উলামা, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) পবিত্র রমজান মাসের ২০ তারিখে দুপুর ২টায় হারাগাছের খলিফার বাজারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মৌভাষা শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস, হারাগাছ এলাকার উদ্যোগে “মাহে রমজান” শীর্ষক এ আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহে রমজানের তাৎপর্য, রোজার শিক্ষা এবং কোরআনের আলোকে জীবন পরিচালনার গুরুত্ব নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ শাইখ ড. শহিদুল্লাহ খান মাদানী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, পবিত্র রমজান মাস হচ্ছে আত্মশুদ্ধি, আত্মসংযম এবং তাকওয়া অর্জনের এক মহামূল্যবান সময়। এই মাসেই মানবজাতির জন্য হেদায়েতের আলো হিসেবে নাজিল হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন। কোরআন শুধু ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্য পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
তিনি বলেন, রমজানের প্রকৃত শিক্ষা হলো মানুষকে আল্লাহভীরু ও নৈতিক চরিত্রসম্পন্ন করে গড়ে তোলা। এ মাসে মানুষকে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা, দান-সদকা করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, রমজান মাসে মানুষ যদি আত্মসংযম, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিক মূল্যবোধকে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারে, তাহলে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। তাই কোরআনের শিক্ষা ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মায়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হেনা মো. রেজওয়ানুল করিম (টুনু)। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মাহে রমজান শুধু রোজা রাখার মাস নয়, বরং আত্মসংযম, সহমর্মিতা এবং মানবতার শিক্ষা গ্রহণের মাস। সমাজের বিত্তবান মানুষদের উচিত এই মাসে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা জমঈয়তে আহলে হাদীসের সেক্রেটারি আবু রায়হান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ইসলামের মূল শিক্ষা হচ্ছে মানবকল্যাণ। মাহে রমজানের শিক্ষা অনুসরণ করে সমাজে ন্যায়, সততা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করা গেলে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউনিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাহফুজার রহমান (মিঠু), বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. নুর আলম টুটুল, মো. নাকিব হোসেন, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বেঙ্গল অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল, হারাগাছ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. সাদাকাত হোসেন ঝন্টু এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ধর্মানুরাগী মো. ফজলুল করিম ফজু।
সভায় সভাপতিত্ব করেন হারাগাছ এলাকা জমঈয়তে আহলে হাদীসের সভাপতি মো. মাহমুদুর রহমান (সোনা)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ফারুক আহম্মদ। আলোচনা সভায় বক্তারা মাহে রমজানের শিক্ষা ও কোরআনের আলোকে মানবজীবন পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সমাজে নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তারা বলেন, রমজান মাস মানুষকে আত্মসংযম, ধৈর্য ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়, যা একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত অতিথি, আলেম-উলামা, মুসল্লি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশে আয়োজিত এই আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনুষ্ঠানে রংপুর জেলা ও হারাগাছ পৌর জমঈয়তে আহলে হাদীসের নেতৃবৃন্দ, আলেম-উলামা, সমাজসেবক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মাহে রমজানের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
রিয়াদ ইসলাম/দৈনিক ইবিনিউজ২৪ডটকম