রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন রংপুর মহানগর গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকারটি পরিণত হয় একটি ফলপ্রসূ মতবিনিময় সভায়, যেখানে রংপুরের উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার, জনদুর্ভোগ এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন। একইসঙ্গে রংপুরের সম্ভাবনাময় খাত কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন,“রংপুরের উন্নয়ন একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করছি। আপনাদের মতো সংগঠনের গঠনমূলক পরামর্শ আমাদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। আমরা একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাজী মোঃ কামাল হোসেন বলেন,“বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। জেলা প্রশাসন হচ্ছে রাষ্ট্রের সেবা প্রদানের মূল কেন্দ্রবিন্দু, তাই একজন জেলা প্রশাসকের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি সরাসরি জনগণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি আরও বলেন,রংপুর একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল হলেও নানা ক্ষেত্রে এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির আধুনিকায়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা মনে করি, জেলা প্রশাসন যদি স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে, তাহলে রংপুর খুব দ্রুত একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
রংপুর মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ইয়াছিন আলী বলেন,“আমরা নবাগত জেলা প্রশাসককে শুভেচ্ছা জানাতে এসে রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এতে আমরা আশাবাদী যে, রংপুরের উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আল এমরান সুজন বলেন,“রংপুর সম্ভাবনার দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকলেও বাস্তবতায় এখনো অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসকের সদিচ্ছা ও ইতিবাচক মনোভাব আমাদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।”
রংপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বলেন,“বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো যুব সমাজের কর্মসংস্থান। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছি। তিনি বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন, যা আমাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা।”
রংপুর মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সদস্য সচিব আনোয়ার চৌধুরী বলেন,“আমরা এমন একটি প্রশাসন চাই, যা জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক এবং সহজপ্রাপ্য। জেলা প্রশাসক আমাদের সঙ্গে যে আন্তরিকতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন, তাতে আমরা আশাবাদী তিনি রংপুরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।”
সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষই রংপুরের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে রংপুর একটি আধুনিক, উন্নত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে।