নিজস্ব প্রতিবেদক,রংপুর।।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টেলিভিশন-এর গৌরবময় এক যুগ পূর্তি উরংপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ এক অনুষ্ঠান। জ্বালানি তেলের চলমান সংকটকে সামনে রেখে পেট্রোলসহ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে রংপুর অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় যমুনা টেলিভিশনের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী,গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যমুনা টেলিভিশনের রংপুর ব্যুরো প্রধান ও সিনিয়র রিপোর্টার সরকার মাজহারুল মান্নান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রংপুর অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মারুফ বিল্লাহ, ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ, মেরাজ ইসলাম, আকাশ চন্দ্র পাপ্পু, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাঈম হোসেন এবং সদস্য সচিব ফেরদৌস জয়সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল পেট্রোল দিয়ে প্রতীকী শুভেচ্ছা প্রদান, যা ছিল একইসঙ্গে একটি প্রতিবাদী বার্তা। দেশের চলমান জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে, সেটি তুলে ধরতেই এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানান রংপুর অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।
সাংবাদিকদের এই উদ্যোগ শুধু আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং এটি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনস্বার্থের বিষয়টি সামনে এনেছে। উপস্থিত অতিথিরাও এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা যমুনা টেলিভিশনের এক যুগের পথচলাকে গৌরবময় ও অনুকরণীয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন,একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। যমুনা টেলিভিশন গত এক যুগে বস্তুনিষ্ঠতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। উন্নয়ন ও সমস্যা দুই দিকই তারা সমান গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছে।
জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বলেন,গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। যমুনা টেলিভিশন সেই ভূমিকা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করে আসছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও তারা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যুরো প্রধান সরকার মাজহারুল মান্নান বলেন, দর্শকদের ভালোবাসা, সহকর্মীদের আন্তরিকতা এবং পেশাদারিত্বের কারণেই আমরা এক যুগের এই পথচলা সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমরা সবসময় সত্য, ন্যায় ও জনগণের পক্ষে থেকে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।
রংপুর অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ফেরদৌস জয় বলেন, আজকের এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের মাধ্যমে আমরা একদিকে যমুনা টেলিভিশনের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছি, অন্যদিকে দেশের জ্বালানি সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেছি। এটি আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ।
আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাঈম হোসেন বলেন,সাংবাদিকরা শুধু সংবাদ পরিবেশন করেন না, সমাজের সমস্যাগুলোও সামনে আনেন। এই প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথাই তুলে ধরেছি।
অন্যান্য সাংবাদিক নেতারাও বলেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে যমুনা টেলিভিশনের ভূমিকা প্রশংসনীয় এবং ভবিষ্যতেও তারা নির্ভীকভাবে সত্য তুলে ধরবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
সংক্ষিপ্ত হলেও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এই অনুষ্ঠানটি রংপুরের সাংবাদিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে পেট্রোল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠান শেষে কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে এক যুগ পূর্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
একদিকে দেশের গণমাধ্যমের সাফল্য উদযাপন, অন্যদিকে জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সংকট তুলে ধরা এই দুইয়ের সমন্বয়ে রংপুরে যমুনা টেলিভিশনের এক যুগ পূর্তির অনুষ্ঠান একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি শুধু একটি উদযাপন নয়, বরং সমাজ সচেতনতার একটি শক্তিশালী বার্তাও বহন করে।