নিজস্ব প্রতিবেদক।।
‘শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও দেশপ্রেম’—এই অঙ্গীকারকে ধারণ করে ২৬ ও ২৭তম ব্যাচের নবীন সিপাহিদের ১০ সপ্তাহব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী-এর আওতাধীন লালমনিরহাট আনসার ব্যাটালিয়ন ৩৪ সদর দপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাটালিয়নের পরিচালক মো. কামারুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রংপুর রেঞ্জ কমান্ডার মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল, বিভিএম, পিভিএমএস। উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কোরআন তেলাওয়াত এবং নবীন সিপাহিদের শপথ পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেঞ্জ কমান্ডার বলেন, “প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো বাহিনী তার কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা ও সাফল্য অর্জন করতে পারে না। একজন সিপাহির পেশাগত জীবনের মেরুদণ্ড হচ্ছে তার প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ। এই ১০ সপ্তাহ তোমাদের জীবন ও ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।”
তিনি নবীনদের উদ্দেশ্যে বলেন, মৌলিক প্রশিক্ষণ শুধু শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নয়; বরং এটি মানসিক দৃঢ়তা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, দলগত চেতনা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। একজন সদস্যকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে হলে তাকে কৌশলগত জ্ঞান, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং কঠোর শৃঙ্খলার চর্চায় অভ্যস্ত হতে হবে।
রেঞ্জ কমান্ডার জানান, ১০ সপ্তাহব্যাপী এই মৌলিক প্রশিক্ষণে অস্ত্রচালনা, ড্রিল, শারীরিক কসরত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয়, ভিড় নিয়ন্ত্রণ কৌশল, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার ও নাগরিক সুরক্ষা বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে সদস্যদের নৈতিকতা, সততা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ, সুশিক্ষিত ও মানবিক সদস্য গড়ে তোলাই এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য। তোমাদের প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে—তোমরা শুধু একটি বাহিনীর সদস্য নও; তোমরা দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার অগ্রদূত।
বক্তব্যে তিনি সময়ানুবর্তিতা, কমান্ড চেইন মেনে চলা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দলগত চেতনা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ ছাড়া কোনো বাহিনী সফল হতে পারে না। প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপ মনোযোগসহকারে অনুসরণ করলে ভবিষ্যতে তোমরা আদর্শ ও দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।”
তিনি নবীন সিপাহিদের সততা, দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বকে জীবনের মূলমন্ত্র হিসেবে ধারণ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, বাহিনীর সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রত্যেক সদস্যকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, প্রশিক্ষণ মাঠ পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। নবীন সিপাহিদের মাঝে এ আয়োজন নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ সময় ব্যাটালিয়নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, নবীন প্রশিক্ষণার্থী সদস্য, সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, যুগোপযোগী ও মানসম্মত এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২৬ ও ২৭তম ব্যাচের সদস্যরা ভবিষ্যতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
রিয়াদ ইসলাম /দৈনিক ইবিনিউজ২৪ডটকম