শিরোনাম:
সিংড়ায় খাবার খেয়ে একসাথে অসুস্থ ৮ শ্রমিক, হাসপাতালে ঐতিহ্য ও শিক্ষার দীপ্ত প্রতীক কালীগঞ্জের বক্তারপুরের ফুলদী জনতা উচ্চ বিদ্যালয় অনন্য ইতিহাস ডাকাতি করতে গিয়ে ডাকাতের গুলিতে ডাকাত নিহত তিমির বীরগঞ্জে ৩টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কে জরিমানা. বটিয়াঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ১১ বছর পর অ্যাপেন্ডিক্স এর অপারেশনে জনমনে স্বস্তি মোরেলগঞ্জে কোডেক এর সংলাপ অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জ যথাযথ কর্তপক্ষের কমিটির অজান্তে পুরাতন ভবন ও গাছ বিক্রি করলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ মোরেলগঞ্জে সিসিডিবি’র উদ্যোগে প্রশিক্ষন বটিয়াঘাটায় ঘাসফুল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পরিচালকের বিরুদ্ধে ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত  দিঘলিয়ায় তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ, বাড়ছে ভাইরাল সংক্রমণ ও হাম-এলার্জির প্রকোপ
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫০ অপরাহ্ন
নোটিশ :
সারাদেশে জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে....। আগ্রহীগণ যোগাযোগ করুন:  01911179663

ডুমুরিয়ায় ঘ্যাংরাইল নদীর পল্লীশ্রী কলেজ সংলগ্ন কদমতলা খেয়াঘাটে শেষ ভাটিতে নদীর করুন অবস্থা।

Reporter Name / ৩৯ Time View
Update : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা:।খুলনার ডুমুরিয়ায় ঘ্যাংরাইল নদীর পল্লীশ্রী কলেজ সংলগ্ন কদমতলা খেয়াঘাটে শেষ ভাটিতে নদীর অবস্থা। সবাইকে নদী রক্ষায় টিআরএম বাস্তবায়নে লক্ষে ‌সরকাকে এড়িয়ে আসতে হবে। নদী বাচলে এলাকার মানুষ বাঁচবে তাই এলাকার নদী বাঁচান, নিজেদের বাঁচুন।

বাঁধ দিয়ে নদী খননের ফলে খুলনার ডুমুরিয়ার খড়িয়া থেকে বারোআড়িয়া পর্যন্ত তেলিগাতী নদীতে উজানের ২৮ কিলোমিটার দ্রুত পলি জমে ভরাট হচ্ছে। নদীতে ভাটায় স্রোত না থাকায় জোয়ারে সাগর থেকে আসা পলিতে ভরাট হচ্ছে। এ নদীর সঙ্গে সম্পর্কিত রয়েছে ৫০ লক্ষাধিক মানুষ। এ নদী মারা গেলে যেমন পানিবন্দি হয়ে পড়বে, তেমনি প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষিজীবী মানুষ বিপাকে পড়বে।
এদিকে বিলডাকাতিয়ার মতো শৈলমারী নদীও পলি পড়ে ভরাট হওয়ার কারণে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম থেকে শুরু করে ৬-৭ মাস পানিবন্দি হয়ে পড়ছে লক্ষাধিক পরিবার। এ অঞ্চলের সিংহভাগ কৃষিজমি এখনো পানিমগ্ন রয়েছে। সেখানে বোরো চাষাবাদ হচ্ছে না। একই অবস্থা হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে যশোর-খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের ভবদহ, মনিরামপুর, কেশবপুর, ডুমুরিয়া, ফুলতলাসহ ডজনখানেক উপজেলার কমপক্ষে ১১৪টি বিল।
সরেজমিন দেখা যায়, তীব্র খরস্রোতা তেলিগাতী নদীতে পায়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছে দুই পারের মানুষ। ডুমুরিয়ার কদমতলা খেয়াঘাট এলাকায় গিয়ে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। উজানে জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে অপরিকল্পিত নদী খনন করার ফলে ভাটি এলাকার ২৮ কিলোমিটার নদী দ্রুত পলি জমে ভরাট হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে নদীতে ১০ ফুটের বেশি পলি জমে বেহাল এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার হুমকিতে পড়তে যাচ্ছে বিলডাকাতিয়াসহ ১১৪ বিল। নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়বে বৃহৎ অঞ্চলের ৬০ থেকে ৬৫ লাখ মানুষ।
জানা গেছে, সাগর থেকে উঠে আসা শিবসা নদীর একটি জলধারা বয়ারঝাপা হয়ে বারোআড়িয়া চার মুহনির একটি শাখা ডুমুরিয়ার গ্যাংরাইল, তেলিগাতী, হরিহর নদী হয়ে যশোর-খুলনা অঞ্চলের ১০-১২টি উপজেলার মধ্যদিয়ে বিভিন্ন জলাশয়ে প্রবাহিত। কিন্তু তীব্র খরস্রোতা নদীগুলো পলি জমে ভরাট হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার সূত্র জানায়, খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৬টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের এ প্রকল্প সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন হচ্ছে। গত বছরের ২৪ অক্টোবর নদী খননকাজের উদ্বোধন হয়। জোয়ার-ভাটার নদী আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে নদীগুলো খনন করা হচ্ছে।
কদমতলা খেয়া ঘাটের পাটনি বিশ্বজিৎ মণ্ডল জানান, ‘নদীর স্রোত আটকানোর কারণে দ্রুত পলি পড়ে ভরাট হচ্ছে। এখন জোয়ারে ছাড়া ভাটায় খেয়া চলে না। এ সময় লোকজন পায়ে হেঁটে নদী পারাপার হয়।’ ডুমুরিয়ার ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহাজান জমাদ্দার জানান, ‘খর্ডুয়া ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বাঁধ দেওয়ায় বেপরোয়া গতিতে বাঁধের বাইরে পলি জমে নদী ভরাট হচ্ছে। মাসখানেকের মধ্যে ১০ ফুটের বেশি পলি জমেছে। নদী খনন শেষ হওয়ার আগেই ভাটি এলাকার নদী মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার হুমকিতে পড়তে যাচ্ছে যশোর-খুলনার বৃহৎ একটি অংশ।
মধুগ্রাম বিল কমিটির সভাপতি জি এম আমান উল্লাহ জানান, প্রবহমান নদীতে বাঁধ দিয়ে স্রোত আটকিয়ে নদী খনন করায় পলি জমছে। ভাসমান এক্সকাভেটর দিয়ে নদী খনন করলে অন্তত নদী নতুন করে ভরাট হতো না। তিনি বলেন, ‘শৈলমারী নদী মারা যাওয়ায় বিলডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়ার উত্তরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তেমনি খর্ডুয়ার নদী মারা গেলে গোটা ডুমুরিয়ার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। তিনি নদী খননের পাশাপাশি উজানের নদী দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল রাখার দাবি জানান। কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মোতলেব সরদার জানান, ‘প্রবহমান নদী বেঁধে নদী খনন করা একটা অযৌক্তিক কাজ। আমরা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খননের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এ নদী সম্পর্কিত ভবদহ অঞ্চলে রয়েছে ২৭টি বিল, কেশবপুর অঞ্চলে ২৬টি বিল ও আপারভদ্রা অববাহিকায় আছে ৩০টি বিল, যা জলাবদ্ধতার হুমকিতে পড়েছে। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধ হয়ে আছে বিলডাকাতিয়াসহ শৈলমারী অববাহিকায় আরো ৩১টি বিল। সব মিলিয়ে বৃহৎ এ অঞ্চলে ৬০-৬৫ লাখ লোকের বসবাস রয়েছে।
এ বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যশোর পানি উন্নয়ন সার্কেল) বি এম আবদুল মোমিন জানান, আগামী জুনে ৮১.৫ কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্পের ডিপিপি মেয়াদ শেষ হচ্ছে। প্রয়োজন হলে প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন, যেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে তার ভাটি এলাকায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ড্রেজিং ধরা আছে। তাছাড়া প্রকল্প রিভিউ বা পুনর্বিবেচনা করারও সুযোগ আছে। আমাদের উদ্দেশ্য পানি নিষ্কাশন করা। সুতরাং বর্ষা মৌসুমে উজানে পানির চাপ বৃদ্ধি হলে বাঁধ কেটে দেওয়া হবে। এরপর স্রোতের গতি বৃদ্ধি করতে যতদূর প্রয়োজন হয়, ততদূর পর্যন্ত ড্রেজিং করা হবে। শোলমারী নদী খনন বিষয়ে তিনি বলেন, বিলডাকাতিয়াসহ উত্তর ডুমুরিয়া এলাকার পানি নিষ্কাশনে প্রায় ৫০ কোটি টাকার খনন প্রকল্প অনুমোদন হয়ে গেছে। দ্রুত টেন্ডার দেওয়া হবে। এ খনন প্রকল্পের মধ্যে ৫টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ৩৫ কিউসেক পাম্প স্থাপন ধরা আছে। এর ৩টি স্থাপন হবে রামদিয়া স্লুইসগেটে এবং ২টি শোলমারী স্লুইসগেটে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দেড়-দুই মাসের মধ্যে শোলমারী নদী খনন শুরু হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category