নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর।।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মাঝে গণভোটের রায়ের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গনভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরেন। শুক্রবার ১০ এপ্রিল সকাল ১০ টায় উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন এবং সাধারণ মানুষের হাতে হাতে গনভোটের রায় বাস্তবায়নের লিফলেট তুলে দিয়ে জনগণের ৬৯% শতাংশ মানুষের জনরায় মেনে নেয়ার কথা বলেন সরকার কে।কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা কামরুজ্জামান কবির। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মিনহাজুল ইসলাম, নায়েবে আমীর শাহ মোহাম্মদ রোস্তোম আলী, পৌর আমীর মাহফুজার রহমান, পৌর বাইতুল মাল সেক্রেটারি মাওলানা আশরাফ আলী, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাসুদ হাসান রানা সহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
লিফলেট বিতরণকালে নেতৃবৃন্দরা বলেন, বর্তমান সময়ে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তারা গনভোটের বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করে ৬৯% শতাংশ জনরায় দিয়েছে দেশের জন্য, সরকার এ জনগণের রায় মেনে না নিয়ে তা বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। অবিলম্বে এই জনরায় মেনে নিন। গনভোটের রায় নিশ্চিত করা গেলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হবে। নেতারা বলেন, গণভোট হচ্ছে জনগণের সরাসরি মতামত প্রকাশের একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। এটি বাস্তবায়ন করা হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে এবং একটি জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকার ভুলে গেছে ২৪ সালের গনঅভ্যুত্থানে এদেশের মানুষ এক স্বৈরাচার কে বিদায় করেছে, জনগণের গণভোটের রায় মেনে নিয়ে সরকার পরিচালনা করুন নয়তোবা আপনাদের পরিণতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত হবে।
মাওলানা কামরুজ্জামান কবির বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত নয়, বরং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। গণভোটের রায় মেনে নিন। গনভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করুন। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ২৪ সালের গনঅভ্যুত্থানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার বিতারিত করেছে আপনাদের পরিনতি যেনো এমন না হয়, তাই অতি দ্রুত গনভোটের রায় মেনে নিন। তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের কণ্ঠস্বরকে মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। গণভোট সেই কণ্ঠস্বর প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। আমরা বিশ্বাস করি, গনভোটের এই দাবির প্রতি জনগণের সমর্থন আরও বাড়বে।
এ সময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। গণভোট রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি কার্যকর উপায়। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তারা লিফলেট গ্রহণ করেন এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন।এতে বোঝা যায়, জনগণের মধ্যে গনভোটের বিষয়ে অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে নেতৃবৃন্দ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং গণভোটের রায়ের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।শেষে নেতৃবৃন্দরা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন কেবল একটি রাজনৈতিক দাবি নয়, বরং এটি জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এ লক্ষ্যে তারা দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।