রংপুর ব্যুরো:
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে মারধর, শ্লীলতাহানি, দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখা এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী মো. আব্দুর রহমান বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের আমলীর ডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজন প্রতিবেশীর দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই গত ১২ জুন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত মো. রশিদ খন্দকার, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. জামিনুল ইসলাম, মোছা. আনোয়ারা বেগমসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে তার বাড়িতে এসে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় আব্দুর রহমান বাড়িতে না থাকায় অভিযুক্তরা তার স্ত্রী মোছা. কহিনুর বেগমকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। কহিনুর বেগম এর প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বাড়ির সামনে ও রাস্তার ওপর টেনে এনে মারধর করেন। হামলার ফলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও জখমের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা কহিনুর বেগমের শ্লীলতাহানি করেন এবং তাকে জোরপূর্বক একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় তার কানে থাকা স্বর্ণের দুল খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকার কারণে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম এবং বদরগঞ্জ থানার এএসআই জুয়েলের হস্তক্ষেপে কহিনুর বেগমকে উদ্ধার করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা যাওয়ার সময় বাদীর বসতভিটায় রোপণ করা দুটি আমগাছের চারা ভেঙে ক্ষতিসাধন করেন এবং ভবিষ্যতে মামলা বা অভিযোগ করলে আরও ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে মো. ইউসুফ আলী, মো. আব্দুল বারেক ও মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাদী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী মো. আব্দুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জের ধরে আমার অনুপস্থিতিতে আমার স্ত্রীর ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় তারা আবারও হামলা করতে পারে। আমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ”এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলোর সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির মতো অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।