রংপুর প্রতিনিধি:
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীসহ রংপুর মহানগরবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রংপুর মহানগর গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পৃথক বার্তায় শুভেচ্ছা জানান রংপুর মহানগর গনঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ইয়াছিন আলী এবং ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আল এমরান সুজন।
তারা বলেন, বাংলা নববর্ষ কেবল একটি বর্ষপঞ্জির সূচনা নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। নববর্ষ আমাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনা, নতুন উদ্যম এবং নতুন প্রত্যয়ের বার্তা নিয়ে আসে।
শুভেচ্ছা বার্তায় নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, “পুরোনো বছরের সকল ব্যর্থতা, গ্লানি ও হতাশা পেছনে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই আমরা একটি সুন্দর আগামী নির্মাণের স্বপ্ন দেখি। বাংলা নববর্ষ আমাদের সেই শক্তি ও সাহস জোগায়, যা দিয়ে আমরা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি।”
তারা আরও বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বছরে এসব মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সদস্য সচিব ইয়াছিন আলী বলেন,“বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর তাৎপর্য বহন করে। এটি শুধু উৎসব নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও নতুনভাবে পথচলার একটি সুযোগ। আমরা চাই, ১৪৩৩ সাল হোক জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বছর।”
তিনি আরও বলেন,“গণঅধিকার পরিষদ সবসময় সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন বছরে আমরা সেই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। দুর্নীতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান আগের মতোই দৃঢ় থাকবে।”
তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন,“এসো আমরা সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেখানে প্রতিটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে।”
ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আল এমরান সুজন বলেন,“নতুন বছর মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন ও নতুন সম্ভাবনা। আমরা বিশ্বাস করি, ১৪৩৩ বাংলা সাল হবে দেশের মানুষের জন্য পরিবর্তনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বছর।”
তিনি আরও বলেন,“আজকের তরুণ সমাজই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তরুণদের সচেতন, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। গণঅধিকার পরিষদ তরুণদের সেই শক্তিকে ইতিবাচক পথে কাজে লাগাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রংপুর মহানগর গণঅধিকার পরিষদ সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা চাই, এই নববর্ষে সকল বিভেদ ভুলে সমাজে সম্প্রীতি, শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা পাক।”
নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন,“পহেলা বৈশাখ বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এই ঐতিহ্যকে লালন ও সংরক্ষণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে, যাতে আমাদের শেকড়ের সাথে সম্পর্ক অটুট থাকে।”
নেতৃবৃন্দ দেশবাসীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন,“বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ সবার জীবনে বয়ে আনুক নতুন আশার আলো, সফলতা ও কল্যাণ। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে একযোগে কাজ করি।”